নরসিংদীতে মসজিদ ও আজান বন্ধ করে দেয়ার গুজব; যা বললেন ওসি জাবেদ মাহমুদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | এম মাহিরজান ও মাসুদ রানা


নরসিংদী জেলার বেলাব থানাধীন দুলালকান্দি গ্রামের একটি মসজিদে আজান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মর্মে কিছু নামসর্বস্ব অনালাইন পত্রিকা যে খবর প্রকাশ করেছে, তা আদতে গুজব বলে জানা গেছে।

জেলার বেলাব থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ ও টিনএনও উম্মে হাবিবা আজান ও মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে যে গুজব রটানো হয়েছে, সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে তা মূলত একটি চক্রের পরিকল্পিত চক্রান্ত।

খবর নিয়ে জানা গেছে, বেলাব থানার দুলালকান্দি গ্রামের একটি মসজিদ পুনঃনির্মান করার জন্য মূল মসজিদের পাশে একটি অস্থায়ী টিনের ছাপড়া তৈরি করা হয়েছিলো। যখন মূল মসজিদের নির্মান কাজ সমাপ্ত হয় তখন এলাকার মুসুল্লীরা সবাই মূল মসজিদে এসে নামায পড়তে শুরু করেন।

বিপত্তি বাধায় এলাকার কথিত পীর রাজারবাগীর কিছু ভক্ত ও মাজারপন্থীরা। তারা মূল মসজিদ দখলে নিয়ে এলাকার লোকজনকে উস্কে দিয়ে এখানে নানারকম বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করতে থাকে। কিন্তু মসজিদের নিয়মিত মুসুল্লীদের প্রতিবাদের কারনে সে কর্মকান্ড ভেস্তে যায়। এর পরপরই তারা মূল মসজিদের পাশে তৈরি আস্থায়ী সেই টিনের ছাপড়ায় নিজেদের আস্তানা বানিয়ে নেয়। টিনের ছাপড়াটি মূল মসজিদের ঠিক পাশেই। এই নিয়ে এলাকার মুসুল্লীদের সাথে রাজারবাগী মাজারপন্থীদের প্রায়শই বাক বিতন্ডা হতো।

সর্বশেষ, বিগত রমযানে মসজিদে দাওয়াতে তাবলীগের একটি জামায়াত আসাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় দন্ধ । চট্টগ্রাম থেকে আসা রাজারবাগীর ভক্ত ও মাজারপন্থীদের নেতা মুহাম্মদ মুজাহিদের উস্কানিতে তারা দাওয়াতে তাবলীগের সাথীদের উপর হামলা চালায়। এতে তাবলীগের সাথী ও এলাকার মুসুল্লীদের মধ্য থেকে ৯/১০ জন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের আহত অবস্থায় বেলাব হাসপাতালে ভর্তি হয়।

এ ঘটনার পর সংকট নিরসনে বেলাব থানার টিএনও উম্মে হাবিবা ও ওসি জাবেদ মাহমুদ উভয় পক্ষকে নিয়ে টিএনও অফিসে মিটিং করেন। মিটিং এ উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে ৩টি সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

সিদ্ধান্তগুলো ছিল-
১| তাবলীগ জামাত সারা বিশ্বব্যাপি চলে। সুতরাং, মসজিদে যদি কোন তাবলীগ জামাত আসে তাহলে তাদের মারধর করা যাবেনা। তাদেরকে তাদের মতো করে দাওয়াতি কাজ করতে দিতে হবে।

২| মসজিদের পাশে টিনের ছাপড়া সরিয়ে ফেলতে হবে, যেহেতু এটার আর কোন দরকার নেই।

৩| হামলার ঘটনার উস্কানিদাতা চট্টগ্রাম থেকে আগত রাজারবাগী বেদাতী মুজাহিদকে এলাকা ছাড়তে হবে। কারন, তার কারনেই এলাকায় এমন একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।

এবিষয় জানতে চাইলে, বেলাব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবের মাহমুদ জানান, মসজিদে আজান বন্ধ বা মসজিদ বন্ধের যে গুজব রটানো হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি বলেন, আপনারা খবর নিয়ে দেখতে পারেন মসজিদে আজানও হচ্ছে আর মসজিদ বন্ধ করার তো প্রশ্নই আসেনা।

তিনি বলেন, মূলত মসজিদকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল, বিরোধ মিটাতে এমপি মহোদয় স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠক করেন। এবং এতে বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়। এখানে আমাদের কোন হাত নেই।

ওসি জাবেদ মাহমুদ আরো জানান, বেলাব থানার টিএনও উম্মে হাবিবা উভয় পক্ষের সংকট নিরসনে একটি কমিটি করে দিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিষয় তিনি বলেন, এসব খুবই দুঃখজনক। না যেনে না শুনে কারো বিরুদ্ধে গুজব রটানো তো উচিৎ নয়। গুজবে বলা হচ্ছে আমি এবং টিএনও ম্যাডাম মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছি! এটা যে কত বড় মিথ্যে কথা তা আপনারা এলাকায় গিয়ে খবর নিলেই বুঝতে পারবেন। আর আমরা মসজিদ বন্ধ করতে যাবো কেন? আমি নিজে একজন মুসলমান। আমি চাই মজজিদে নামাজ হোক, আজান হোক। আমি নিজেও নামাজ পড়ি। এলাকায় সমস্যা হয়েছে, সমস্যা সমাধানে উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বৈঠক করে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, এখানে আমাদের কোন হাত নেই।