যেভাবে আড়াই শতাধিক খৃস্টানের জীবন বাঁচালেন মসজিদের ইমাম

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


(নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই ইমামের নাম প্রকাশ করা হয় নাই। ছবিতে তার ও গ্রামবাসাীদের মুখও ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।)

একটি খৃস্টান পল্লী শত শত ভীতসন্ত্রস্ত পরিবারকে ছুটাছটি করতে দেখেন মসিজদের একজন ইমাম। তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তার সাহসী উদ্যোগে বেঁচে যান কয়েক শত খৃস্টান। তিনি যদি তখন পালিয়ে আসা খৃস্টানদের বাঁচাতে এগিয়ে না আসতেন তাহলে আরো বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটতো। কারণ সশস্ত্র ব্যক্তিরা তখন প্রতিবেশি এই গ্রামটিতেও পালিয়ে যাওয়া লোকজনের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছিল।

গত শনিবার নাইজেরিয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার দুপুরে প্রায় ৩০০ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ প্রতিবেশী গ্রামে ওইসব খৃস্টানদের ওপর হামলা চালালে তারা জীবন বাঁচাতে ছুটে আসছিল। অকস্মিক  হামলাকারীরা তাদের গ্রামে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে বিভিন্ন বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার থেকে বাঁচতে কয়েকশো খৃস্টান পরিবার দৌঁড়ে প্রতিবেশি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামের দিকে যেতে থাকে; যেখানে গ্রামে বসবাস করেন ওই মসজিদের ইমাম।

অবস্থা দেখে ওই ইমাম খৃস্টানদেরকে নিজের বাড়িতে এবং মসজিদের ভেতরে নিয়ে লুকিয়ে রাখেন। আশ্রয় পাওয়াদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ওই ইমাম  প্রথমে নারীদেরকে লুকিয়ে রাখার জন্যে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তারপর পুরুষদের নিয়ে যান মসজিদে।

গ্রামবাসীদের একজন বলেন, প্রথমে তারা একটি গ্রামে হামলা চালায়। তখন আমরা নিরাপত্তা চৌকিগুলোর দিকে দৌড়াতে শুরু করি। কিন্তু তখন তারা সেদিকেও গুলি চালাতে শুরু করে। তখন নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরাও আমাদের মতো এদিকে ওদিকে পালাতে শুরু করে। আক্রমণকারীরা এখানেই থেমে যায় নি। যখন তারা জানতে পারে যে ইমাম গ্রামবাসীদেরকে একটি মসজিদের আশ্রয় দিয়েছেন, তখন তারা তাদেরকে মসজিদের থেকে বের করে আনার জন্যে ইমামের কাছে দাবি জানাতে থাকে।

কিন্তু মসজিদের ইমাম তখন তাদের দাবি অনুযায়ী কাজ করতে রাজি হন নি। শুধু তাই নয়, আক্রমণকারীদেরকে তিনি মসজিদের ভেতরে যাওয়ারও অনুমতি দেন নি। তারা তখন ইমামের বাড়ি ও মসজিদ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। তাদেরকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করতে থাকেন। হামলাকারীরা তখন তার কথা শুনে সেখান থেকে চলে যায়।

গ্রামবাসীদের একজন বলেন, তারা যখন আমাদেরকে মসজিদের ভেতরে নিয়ে গেল তারপর কেউই আমাদেরকে মসজিদ থেকে চলে যেতে বলেনি, তাদের জন্যে প্রার্থনা করতেও বলেনি। বরং তারা আমাদেরকে রাতের ও দুপুরের খাবার দিয়েছে। আমরা তাদের কাছ কৃতজ্ঞ।