বছরে ভারত যাচ্ছে ১০ বিলিয়ন ডলার; রপ্তানি আয় বাড়লেও কমছে রিজার্ভ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মুহাম্মদ শাকিরুল হক


এই ছোট্ট বাংলাদেশ শত কোটি জনসংখ্যার ভারতকে ১০ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স দিচ্ছে যা ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ। এক, দুই, তিন এ থাকা আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব সাথে বাংলাদেশের পার্থক্যও খুব সামান্য। এই তিনটি দেশ থেকে রেমিটেন্স আসছে যথাক্রমে ১২.৫৭, ১০.৬৫ ও ১০.২২ বিলিয়ন ডলার। পঞ্চম অবস্থানে থাকা কুয়েত দিচ্ছে মাত্র ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশের দেয়া রেমিটেন্স এর ৪২% এর মত। এই হিসেব ২০১৭ সালের। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩.৭ বিলিয়ন ডলার যা ৫ বছরে বেড়েছে ২.৭ গুন বেশি। বাংলাদেশের যে ভারত তোষণ নীতি তাতে এই পরিসংখ্যান কোথায় গিয়ে ঠেকবে তাসহজে অনুমেয়। দুর্নীতির এই দেশ থেকে অবৈধ পথে যে কত টাকা পাচার হচ্ছে তা আমাদের ধারণারও বাইরে। সেই হিসেবে ভারতের সর্বোচ্চ রেমিটেন্স আয়ের উৎস এখন বাংলাদেশ। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ((সিপিডি) এক সংবাদ বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে।

অথচ এ দেশেই আছে ৪০ লক্ষ শিক্ষিত বেকার। চাকুরীর উচ্চপদগুলোও ভারতীয়দের দখলে। যেখানেই (তথাকথিত দক্ষ) ভারতীয় এডমিনিস্ট্রেশন সেখানেই অযোগ্য ভারতীয়দের উচ্চ বেতনে নিয়োগ আর বাংলাদেশীদের অবমূল্যায়ন। এ বিষয়টি নিশ্চয় চাকুরী সংশ্লিষ্টদের জানা আছে। বাংলাদেশে বিদেশীদের ওয়ার্ক পারমিট বিদেশী কোন এ্যাম্বাসি দেয় না। দেয় বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট। এর কিছু প্রসেস আছে। খাতা কলমে যার মধ্যে একটা হচ্ছে, সেই বিদেশী টেকনিশিয়ান বা অফিসার তার বিকল্প লোকবল তৈরি করে দিবে। এর জন্য নির্দিষ্ট সময় ধরে দেওয়া আছে। কিন্তু এই কাজটা কেউ করে না এবং কোন এক অদৃশ্য ইশারায় নিয়োগ দেয়া কোম্পানি নিজেও এটা চায় না। যে কারণে নিয়োগ দাতা কোম্পানি বছরের পর বছর ভারতীয়দের স্ব-ইচ্ছায় নিয়োগ দিয়ে রাখতে নিজ উদ্যোগে ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসা রিনিউ করে বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্টকে ম্যানেজ করে। এমনকি নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মচারীর আয়কর অনেক কোম্পানি নিজে বহন করে এবং যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, বেতনটা কোম্পানি নিজ উদ্যোগে ভারতে পাঠিয়ে দেয় বা ভারত থেকে যাতে করে সে টাকাটা হাতে পায় তার ব্যাবস্থা করে দেয়। এমনই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন এই বিষয় নিয়ে কিছুদিন কাজ করা একজন গবেষক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী ২০০৯ সালে ৫০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) ভারতীয় অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করতো। কিন্তু বর্তমানে এই সংখ্যা ১,০০০,০০০ (দশ লক্ষ) ছাড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাও এমন পূর্বাভাস দিয়েছিলো।

আরও আশংকার কথা হচ্ছে, এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই অবৈধ ভারতীয়দের অর্থ পাচারের ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থমকে গেছে। ২০১৬ সালে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৩ মিলিয়ন ডলার কিন্তু গত ৩ বছরে এর পরিমাণ আর বাড়েনি বরং সামান্য কমেছে যদিও আমাদের রপ্তানি আয় ৭ ভাগ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এর একটি সূত্র ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্পষ্টতই, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ভারতীয়দের বিষয়ে তড়িৎ সিদ্ধান্ত ও দক্ষ বাংলাদেশীদের চাকুরীর অধিকার ও যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যকীয় বলে মনে করছেন সমাজ ও রাষ্ট্র চিন্তকরা।

সূত্র : ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি