হামলার ২০ মিনিটের মধ্যেই বিদেশিদের হত্যা করা হয়: পুলিশ প্রধান

এ কে এম শহীদুল হকগুলশানের হোটেল হলি আর্টিজানে হামলার ২০ মিনিটের মধ্যেই সন্ত্রাসীরা বিদেশিদের হত্যা করে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক।

রাজধানীর রাজাবাগ পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে এক শোকসভায় তিনি এ কথা বলেন। ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন নিহতের ঘটনায় এ শোক সভার আয়জন করে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আইজিপি বলেন, ঘটনার সময় আমি তারাবির নামাজ পড়ছিলাম। তখন আমার ফোন বেজে ওঠে, নামাজ শেষ করে দেখি একজন ডিসি আমাকে কল করেছেন। তার ফোন কলটা ধরেই আমি জানতে পারি এই ঘটনা। তখন ঘটনাস্থলের দিকে যেতে থাকি।

‘ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গেলেই ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন যে- স্যার আপনি থানায় গিয়ে বসেন, এখন ঘটনাস্থলে আসিয়েন না। আমি তখন থানায় না গিয়ে সরাসরি চলে যাই ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে দেখি, এক রুমে বনানী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন খান এবং পাশের রুমে এসি রবিউল করিম। রবিউল গুরুতর আহত। সব ডাক্তার আর নার্সরা তাকে ঘিরে চিকিৎসা করছেন। তার হার্টবিট ওঠা-নামা করছে। এই অবস্থা দেখে আমি সেখানে থাকা হাসপাতাল পরিচালনকে বললাম- যেকোনো মূলেই হোক আমার অফিসারদের বাঁচাতে হবে আপনি সব ডাক্তারদের এখানে ডেকে নিয়ে আসুন, আর চিকিৎসা করুন’।

পরক্ষণে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে বললো, ওসি সালাহ উদ্দিন মারা গেছেন।

‘এরপর দৌড়ে যাই এসি রবিউলের কাছে, আমার সামনেই রবিউলও মারা গেলো’- আইজিপি এই কথাগুলো বলছিলেন আর চোখ বেয়ে অশ্রু পড়ছে ঝরছে।

শহীদুল হক বলেন, তারপরই দেখি মারুফকে আহত অবস্থায় কয়েকজন নিয়ে এসেছে। ওই সময় একের পর এক পুলিশের কর্মকর্তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হচ্ছিল…।

তখনও কথা বলতে বলতে কাঁদছেন আইজিপি।

সেই সঙ্গে পুলিশ লাইনসের অডিটরিয়ামে থাকা প্রায় সব পুলিশ কর্মকর্তার চোখ বেয়ে পানি পড়ছিল। পুরো অডিটরিয়ামটি যেনো শোকের ছাঁয়ায় কালো হয়ে যায়।

কান্নার পর আইজিপি বলেন, সে রাতে হাসপাতালে থাকার কিছুক্ষণ পর এক পুলিশ কর্মকর্তা ফোনে বলেন যে স্যার এখন আপনি ঘটনাস্থলে আসতে পারেন। তখন আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই।

আইজিপি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বার বার আমাকে ফোন করছিলেন, আর খবর নিচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। সারারাত তিনি খোঁজ খবর নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পাশের একটি ভবনে বসে সব বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। এ সময় পর্যন্ত পুলিশ চারদিক থেকে জঙ্গিদের ঘেরাও করে রাখে।

‘আমাদের (আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী) কাজে ঝুঁকি থাকবেই, তবুও সাহসিকতার সঙ্গে তার মোকাবেলা করতে হবে। বাংলাদেশর মাটিতে জঙ্গিবাদ থাকবে না, সব নির্মূল করা হবে’।

‘এসি রবিউল ও ওসি সালাহ উদ্দিন দুইজনই দেশের গর্ব, সব সময় আন্তরিকতার সঙ্গে রবিউল ও সালাহ উদ্দিনের পরিবারের পাশে থাকবে পুরো পুলিশ বাহিনী। তাদের পরিবারে যাদের চাকরি প্রয়োজন তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা হবে’।

শোকসভায় ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।