ঢাবি এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত, এর অবসান ঘটাবে কে?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


চলমান কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাদের ওপর গত শনিবার প্রকাশ্যে হামলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ ঢাবি নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতাম। আর এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রদের পিটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারপর তাকে বিনা অপরাধে রিমান্ডে নিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন একটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এই মৃত্যুপুরীর অবসান কে ঘটাবে?

আজ বুধবার দুপুরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হককে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, এখন আর কোনো সময় নেই। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। যে কয়েকজন আসে আসুক তাদের নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। আমরা এখন বিপর্যয়ের মুখে। এখন আর মানববন্ধন, বিবৃতি এগুলোর সময় নেই। এখন আমাদের সরাসরি কর্মসূচিতে যেতে হবে। ১/২ জন হোক তাদের নিয়ে মাঠে থাকতে হবে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন ব‌লেন, অভিভাবকদের কষ্টার্জিত অর্থে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের দায়িত্ব হ‌চ্ছে তা‌দের সন্তান‌দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা একটি যৌক্তিক দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছে। সবাই দেখেছেন বিভিন্ন মিডিয়াতে। যে ধরনের নৃশংসতা বর্বর আক্রমণ চালানো হলো। এর কোনো ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই।

‌তি‌নি ব‌লেন, শুধু শিক্ষক ফাহমিদুল হকের কথা বলছি না, প্রত্যেকটি নাগরিকের এই অধিকার রয়েছে। উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু এই উদ্বেগ প্রকাশ করতে গিয়ে তাদের কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে, লাঞ্ছনা করা হয়েছে।

অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী বলেন, আমি গত কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করছি যে, এই ঘটনাগুলো ঘটছে। এটা কেমন বিশ্ববিদ্যালয়, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমরা গর্ব করি। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পিটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারপর তাকে বিনা অপরাধে রিমান্ডে নিয়ে যাচ্ছে। এগুলোর বিচার দাবি করছি।

অধ্যাপক ফাহমিদুল হকও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি বক্তব্য রাখেননি। আন্তর্জাতিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফাও এতে অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে ছাত্রদের ওপর হামলা এবং শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করে শিক্ষার্থীরা।