মুসলিম গরু ব্যবসায়ী হত্যার ৮ আসামিকে ভারতীয় মন্ত্রীর ফুল দিয়ে বরণ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


ভারতের বিজেপিশাসিত ঝাড়খণ্ডে গণপিটুনিতে আলিমুদ্দিন নামে এক মুসলিম  গরু ব্যবসায়ীকে  হত্যায় অভিযুক্ত ৮ জন জামিন পাওয়ায় তাদেরকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা জয়ন্ত সিনহা এমপি। ওই ঘটনায় বিজেপি’র জেলা দফতরে মিষ্টি বিলি করে আনন্দ প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ (শনিবার) গণমাধ্যমে অভিযুক্তদের মুক্তির জন্য একনাগাড়ে আন্দোলন চালানো বিজেপি’র সাবেক বিধায়ক শঙ্কর চৌধুরী বিজেপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে করে অভিযুক্তরা জামিন পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

২০১৭ সালের ২৯ জুন ঝাড়খণ্ডের রামগড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের গণপিটুনিতে নিহত হন গোশত ব্যবসায়ী আলিমুদ্দিন আনসারি। তিনি তার নিজের গাড়িতে করে গোশত নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় গাড়িতে গরুর গোশত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন সন্দেহে উগ্র জনতা তাকে ঘিরে ধরে তার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

ওই ঘটনায় গত ২১ মার্চ রামগড়ের ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট এক বিজেপি নেতাসহ এগারো জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড উচ্চ আদালতে আবেদন জানালে গত ৩০ জুন আদালত আট জনকে জামিন দিয়েছে। গত (বুধবার) তারা জেল থেকে ছাড়া পেলে তাদেরকে ফুলের মালা পরিয়ে অভ্যর্থনা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা। গণমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

আদালতে শুনানির সময় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী বি এন ত্রিপাঠির দেয়া সাক্ষ্যপ্রমাণ ও সাফাই মেনে হত্যার সময় তৈরি ভিডিও ফুটেজ মানতে অস্বীকার করে। এজন্য অভিযুক্ত আট জন জামিন পেয়েছে। তিন জন জামিনের আবেদন না করায় তারা জামিন পায়নি।

সাবেক বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চৌধুরী বলেন, আইনজীবী বি এন ত্রিপাঠির সাফাইতে আমাদের আটজন ভাই জামিন পেয়েছেন। সবাই জামিন পাওয়ার পরে রামগড়ে বিশাল মিছিল বের করা হবে।

ওই ঘটনার সমালোচনা করে ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সোরেন বলেন, ‘এটা খুব গুরুতর বিষয় এবং জয়ন্ত সিনহা যা করেছেন তা কোনো মন্ত্রীর পক্ষে শোভনীয় নয়।’

ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের সভাপতি অজয় কুমার বলেন, ‘রাজ্যে রঘুবর দাস ও কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বিজেপি সাম্প্রদায়িক অনুভূতিকে উসকে দিচ্ছে। ওই ধরনের অংশকে কোনোভাবে সমর্থন দেয়া নিন্দনীয়। এটাই বিজেপি’র প্রকৃত রঙ। এরা কেবল নির্বাচনে জিততে চায় এবং তাদের নেতা যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে পারেন।’

এদিকে, তীব্র সমালোচনার মুখে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা তার সাফাইতে বলেছেন, বিচারব্যবস্থা ও আইনের উপরে তার সম্পূর্ণ আস্থা আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাকে নিয়ে দায়িত্বহীন বিবৃতি দেয়া হচ্ছে। তিনি যা করেছেন তা আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ার সম্মান। যারা নির্দোষ তারা রক্ষা পাবে এবং যারা দোষী তারা যথাযথ সাজা পাবে।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই আমার অবস্থান স্পষ্ট করেছি। দোষীদের সাজা পাওয়া উচিত। আমি জনতার প্রতিনিধি ও মন্ত্রী। আমি আইন রক্ষার শপথ নিয়েছি। আইন হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারো নেই।’


উৎস, পার্সটুডে