বউকে গালমন্দ করায় মা-খালা-ভাইকে কুপিয়ে হত্যা!

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


মা-খালা-ভাইকে হত্যার দায়ে গ্রেফতারকৃত তুহিন শেখ।

পাবনার বেড়া উপজেলার সোনাপদ্মা চারাবটতলা গ্রামে মা ও খালসহ একই পরিবারের ৩ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী তুহিন শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার খুলনার ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গা গ্রামের ফেরদৌস মেম্বারের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের একটি তদন্তকারী দল। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তুহিন তার মা বুলি বেগম,খালা মরিয়ম ও ছোট ভাই তুষারকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

আজ ৭ জুলাই শনিবার বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা, খালা ও ছোট ভাইকে নিজ হাতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তুহিন।

তুহিন স্বীকারোক্তিতে হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশকে জানিয়েছে, প্রায় ৯ মাস আগে ভালোবেসে সে রুনা খাতুনকে বিয়ে করে, সে বিয়েতে তার পরিবার রাজি ছিলো না। বিয়ের পর তাদের বাড়িতে থাকা খালা মরিয়ম খাতুনসহ পরিবারের লোকজন তার স্ত্রীকে মাঝে মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গালিগালাজ ও কটুক্তি করতো।  এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার দিন ভোরে তুহিন প্রথমে তার খালার তুহিনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় তার মা তাসলিমা খাতুন ও ছোট ভাই তুষার এগিয়ে গেলে তাদেরকেও গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর পরই সে বাড়ি থেকে পালিয়ে খুলনা চলে যায়।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, শনিবার বিকালে তুহিনকে হাজির করা হয় পাবনার আমলী আদালত-৩ এ।এসময় আদালতের বিচারক আব্দুল মমিনের কাছে তুহিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই বুধবার ভোরে বেড়া উপজেলার সোনাপদ্মা গ্রামে মা বুলি খাতুন, ছোট ভাই তুষার ও আপন খালা মরিয়ম খাতুনকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে পরিবারের বড় ছেলে তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে বেড়া মডেল থানা পুলিশ মিঠু সেখের বাড়ির উঠান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলো, মিঠু সেখের স্ত্রী (তুহিনের মা) বুলি বেগম(৪০), তুহিনের ছোট ভাই তুষার (১০) এবং তুহিনের খালা মরিয়ম ওরফে নসিমন (৫০)। মরিয়ম একই গ্রামের আবু বকরের স্ত্রী।