মার্চ ২৪, ২০১৭

সন্ত্রাবাদের বিরুদ্ধে মুসলিমবিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: হেফাজতে ইসলাম

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

2016-07-05_163431হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এক যুক্ত বিবৃতিতে ইসলামের পবিত্রতম স্থান মদিনাতুল মুনাওয়ারায় মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সা. এর রওজা মুবারারক ও মসজিদে নববীর কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মসজিদে ও গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিকভাবে যেসব সন্ত্রাসী কর্মকা-, হামলা, নাশকতা ও হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটছে তাতে বিশ্ববাসী শঙ্কিত ও আতঙ্কিত। সারাবিশ্বেই সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইহুদী-খ্রিস্টান সা¤্রাজ্যবাদী ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী পরিচালিত সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম ও দলমত নির্বিশেষে সূদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, এসব হামলা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। যে কোন মূল্যে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতাসীনদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুকাবিলা করতে হবে। তারা বলেন, পৃথিবীর কোন ধর্মই সন্ত্রাসকে পছন্দ করে না। ইসলামের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম কোন উগ্রতা, জঙ্গিবাদ ও সহিংসতাকে সমর্থন করে না। যারা এসব হামলার সাথে জড়িত তারা ইসলাম, মুসলমান ও বিশ্বমানবতার শত্রু।

হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলামে এ ধরনের অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মানুষ খুন করা, বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুহত্যা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। মহানবী সা. যুদ্ধের ময়দানেও নারী, শিশু ও বৃদ্ধকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। ইসলামের সাথে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলাম সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, কতিপয় ইসলামবিদ্ধেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদকে একাকার করে মুসলমানদের কলঙ্কিত করতে চায়।

হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, গুলশানে সন্ত্রাসীদের ন্যাক্কারজনক হামলায় আমরা স্তম্ভিত। গোটা জাতি উদ্ভেগ, উৎকণ্ঠা, আতংক ও অস্বস্থিতে ভুগছে। সরকারের নিকট আমাদের আহবান হলো, দল মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। দেশের নাগরিক, বিদেশী কূটনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। দেশ ও জাতির অস্থিত্ব যেখানে হুমকির সম্মুখিন এমন বিষয়ে রাজনীতির নোংড়া খেলায় মত্ত না হয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনপূর্বক এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করুন। নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করুন ।