ফেরেশতাদের দোয়া প্রাপ্ত মানুষ যারা

ফেরেশতাদের দোয়া প্রাপ্ত মানুষ যারা

 ইসলাম ডেস্ক | সংকলনে: সোহেল আহম্মেদ


কুরআন ও সুন্নাত এর মাধ্যমে জানা যায় যে, দুনিয়াতে এমন সোভাগ্যবান ব্যক্তি রয়েছে যাদের জন্য ফেরেস্তাগণ আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করেন, তাদের গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর রহমত অর্জনের উদ্দেশ্যে আবেদন করে থাকেন। তাঁরা হলেন-

১. ওযূ অবস্থায় ঘুমানো ব্যক্তি:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (ওজূ অবস্থায়) ঘুমায় তার সাথে
একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন। অতঃপর সে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সাথেই আল্লাহ তাআলার সমীপে ওই ফেরেশতা প্রার্থনায় বলে থাকেন, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা সে পবিত্রাবস্থায়
ঘুমিয়েছিল।”
( সহীহ ইবনে হিব্বান )

২. নামাজের জন্য মসজিদে অপেক্ষারত ব্যক্তি:
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মাঝে কোন
ব্যক্তি যখন ওযূ অবস্থায় সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে সে যেন সালাতেই রত। তার জন্য ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো, হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি দয়া করো।”
(সহীহ মুসলিম ৬১৯)

৩. প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারী:
বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, “প্রথম কাতারের নামাযীদেরকে নিশ্চয়ই আল্লাহতালা ক্ষমা করেন ও ফেরেশতারা
তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।”
(সহীহ ইবনে হিব্বান)

৪. রাসূল (সাঃ) এর প্রতি দুরূদ পাঠকারী:
“যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দুরূদ পাঠ করবে আল্লাহতালা তার ওপর সত্তর বার দয়া করেন ও তার ফেরেশতারা তার জন্য
সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অতএব বান্দারা অল্প দুরূদ পাঠ করুক বা অধিক দুরূদ পাঠ করুক (এটা তার ব্যাপার)।”
(সহীহ ইবনে হিব্বান)

৫. যে ব্যাক্তি রোগী দেখতে যায় :
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোন মুসলিম তার অপর (অসুস্থ) মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, আল্লাহতালা তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তারা দিনের যে সময় সে দেখতে যায় সে সময় থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে এবং সে রাতের যে সময় দেখতে যায় সে সময় থেকে রাতের শেষ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।”
(সহীহ ইবনে হিব্বান, ২৯৫৮)

৬. মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়াকারী :
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,কোন মুসলিম তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করলে তা কবুল করা হয় এবং তার মাথার কাছে একজন
ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখনই সে ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোয়া করে তখন সে নিযুক্ত ফেরেশতা বলে, আমীন অর্থাৎ হে আল্লাহ! কবুল করুন এবং তোমার জন্য অনুরূপ অর্থাৎ তোমার ভাইয়ের জন্য যা চাইলে আল্লাহ
তোমাকেও তাই দান করুন।
(সহীহ মুসলিম ৮৮)

৭. কল্যাণের পথে দানকারী:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,”প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন, একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীর
সম্পদ বাড়িয়ে দাও। আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! যে দান করে না তার সম্পদকে বিনাশ করে দাও।”
(বুখারী ১৪৪২)