ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসবাদের (জঙ্গিবাদী) কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল আছে বলে মন্তব্য করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আকতারুজ্জামানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি।

আজ ১০ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য রাখেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, কোটা সংস্কার নিয়ে ঢাবি কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে ভাইস চ্যান্সেলরের বক্তব্য রহস্যজনক। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে যখন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা সোচ্চার এবং সব মহল যখন এই আন্দোলনকে যৌক্তিক আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, ঠিক তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই সাধারণ কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের জঙ্গী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের জঙ্গি সংগঠনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক।

সমিতির সভাপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সরকারের হীন স্বার্থ চরিতার্থে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের কোটা আন্দোলনে জঙ্গি সম্পৃক্ততা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলংকিত করেছেন। যেখানে উপাচার্য এই ধরনের বক্তব্য রাখেন, সেখানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের মারধর করবে এটাই স্বাভাবিক। ভিসির দায়িত্ব হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার বিধান করা। অথচ তিনি তা না করে নানা রকম উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে সরকারের হীন স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত রয়েছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সবার প্রবেশের অধিকার আছে  ঢালাওভাবে ছাত্রছাত্রীদের জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে ঘোষণা দিয়ে ঢাবি এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার আদেশ উপচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা। সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে আন্দোলনকরী ছাত্রছাত্রীদের অহেতুক গ্রেফতার না করার জন্য এবং তাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।

জয়নুল আরো বলেন, সরকারকে অনুরোধ করব কাল বিলম্ব না করে অনতিবিলম্বে দাবি মেনে নিয়ে গেজেট প্রকাশ করুণ। এছাড়া যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের মুক্তি এবং যারা ক্ষতিগ্রস্ত ও পঙ্গু হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করুন। এ সময় তিনি দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি।