মুসিলম তরুণকে বিয়ে করায় তরুণীর মাথা ন্যাড়া

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


নীলফামারীর সদর উপজেলাতে এক মুসলিম তরুণকে বিয়ে করার অপরাধে রিনা বেগম (লক্ষ্মী রানী রায়) নামের এক তরুণীর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাবশালীরা।

মঙ্গলবার ভোরে নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ি চাঁদের হাট কলেজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তরুণী ওই এলাকার মৃত বীরেন্দ্র নাথ রায়ের মেয়ে।

জানা গেছে, গত ২ জুলাই সোমবার ওই তরুণী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে রিনা বেগম নাম ধারণ করে ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রবিউল ইসলামের সঙ্গে। ওইদিন তারা দুইজনেই রবিউলের বাড়িতে চলে যায়।

তরুণী জানায়, গতকাল ০৯ জুলাই সোমবার রাতে তার গ্রামের  মাতব্বররা ঘটনাটি জানতে পেরে, রবিউলের বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যায়। এরপর সালিশের মাধ্যমে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সদানন্দ রায়, দীনবন্ধু রায়, পুষ্প কুমার রায় জোরপূর্বক তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমার পরিবারকে ও আমাকে সমাজচ্যুত করার হুমকি দেয় তারা।

লক্ষ্মী রানীর মা বুলো বালা রায় বলেন, আমার দুই মেয়ে এক ছেলে। এর মধ্যে লক্ষ্মী রানী দ্বিতীয়। সে সংসারের একমাত্র ভরসা। সামান্য ভুলের কারণে আজ আমার মেয়েকে এভাবে লাঞ্ছিত করা হলো। আমি এর বিচার চাই।

মাতব্বর সদানন্দ রায় ও দীনুবন্ধু রায় বলেন, আমরা লক্ষ্মী রানীকে শুদ্ধি করার জন্য ধর্মীয় শাস্ত্রমতে ন্যাড়া করে সমাজভুক্ত করেছি। সে ধর্মান্তরিত হয়ে আমাদের কলঙ্কিত করেছে। আমরা তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে তার মাথার চুল ন্যাড়া করিনি। বরং সে আমাদের ধর্মের অবমাননা করেছে।

নীলফামারী শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমন্দিরের পুরোহিত আশোক কুমার ভট্টাচার্য বলেন, মাথা ন্যাড়া করে কাউকে শুদ্ধি করার বিধান নেই। তবে চুলের অগ্রভাগের সামান্য একটু চুল কেটে শুদ্ধি করা যেতে পারে। তবে তারা কাজটি ঠিক করেনি।

নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ওসি বাবুল আকতার বলেন, এ ঘটনায় এখনও অভিযোগ পাইনি। তরুণী বা তার পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।