বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী : প্রধানমন্ত্রী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


ইনসাফের ইসলাম কায়েমের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি  ভাষণের উদ্বৃতি দিয়ে এ আহবান জানান।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনের আগে এক ঐতিহাসিক বেতার ভাষণে বলেছিলেন, আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হযরত নবী করীম সা: এর ইসলাম, যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের মূলমন্ত্র।

আজ ১১ জুলাই বুধবার সকালে আশকোনা হজক্যাম্পে হজ কার্যক্রম ২০১৮’র (১৪৩৯ হিজরী) উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এ আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য ধর্মের শিক্ষা মানুষের কাছে যেন উচ্চ আসনে থাকে সেটা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু কিছু লোক নিজের স্বার্থে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সমগ্র মুুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। তাই ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সবাই সতর্ক থাকুন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কিছু মানুষ যখন ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাসি কর্মকান্ড সৃষ্টি করে তখন বিশ্বে মুসলমানদের হেয়প্রতিপন্ন হতে হয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এই ধর্মেই আছে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীন ভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। আমাদের নবী করিম সা: ও সে কথা বারবার বলে গেছেন। কিন্তু, তারপরেও কিছু কিছু মানুষের অপকর্মের জন্য ইসলামকে অবমাননা করা হয় যে অধিকার কারোরই নাই।

তিনি বলেন, ইসলামের প্রচারে বঙ্গবন্ধুর অনেক উদ্যোগ ছিলো, কম খরচে হজ পালনের জন্য জাতির পিতা হিজবুল বাহার জাহাজ ক্রয় করেন এবং বিমানেও বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজযাত্রী প্রেরণ করেন। যদিও সেসময় পর্যন্ত সৌদি আরব বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেনি তথাপি বঙ্গবন্ধুর সৌদি আরবের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কারণেই এটা করা সম্ভব পর হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বসহ আরব দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। তাঁর দূরদর্শীতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসি’র সদস্যপদ লাভ করে। তিনি নিজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদরাসা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই প্রথম আইন করে দেশে মদ নিষিদ্ধ, ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন। বেতার ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের শুরু ও সমাপ্তিতে কুরআন তিলাওয়াতের প্রচলন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারই দেশে ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনা, হজযাত্রী পরিবহন, মক্কা-মদিনায় আবাসন ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবাসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্বের সরকারগুলোর সময়কার যাবতীয় অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধাদি বৃদ্ধিসহ হজব্রতপালন যেমন সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতির আওতায় এসেছে, তেমনি প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালেই তাঁর সরকার হজ উইং এর অফিস জেদ্দা থেকে মক্কাস্থ বাংলাদেশ হজ মিশনে স্থানান্তর করে। যেহেতু হজের সকল কার্যক্রম মক্কা থেকেই পরিচালিত হয়ে থাকে। আমাদের এ সিদ্ধান্তের ফলে গত নয় বছরে হজ ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সেবা প্রদান অনেক সহজতর ও উন্নততর হয়েছে এবং দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে আমরাই প্রথম ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জেদ্দা হজ টার্মিনালে প্লাজা ভাড়া করছি।হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবাসহ নানামূখী সেবা প্রদানের লক্ষ্যে জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় হজ প্রশাসনিক দল, হজ চিকিৎসক দল, হজ সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবক দল এবং আইটি টিম রয়েছে। বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে অতীতের অনিয়মকে দূর করাসহ বাংলাদেশ বিমানের বহরে নতুন ছয়টি উড়ো জাহাজ যোগ করে এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে হজযাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় তাদের সফর স্বস্তিদায়ক হবে বলে।

হজ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং প্রতিবছর আমি অপেক্ষা করে থাকি যারা হজে যাবেন তাদের সঙ্গে একটু সাক্ষাত হবে এবং কোন অসুাবিধা থাকলে শুনে নেব এবং সেই সাথে আপনাদের দোয়াও চাইবো। আপনারা যাচ্ছেন আল্লাহর মেহমান হয়ে পবিত্র হজ পালনের জন্য। পবিত্র মক্কা ও মদীনা নগরীতে আপনারা যাবেন নবী করিম সা. পবিত্র রওজা পাক জিয়ারত করবেন। আপনারা ভালভাবে হজ পালন করে সুন্দর ও সুস্থভাবে যাতে ফিরে আসতে পারেন সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আপনারা ৭৫’এর ১৫ আগষ্টের শাহাদত বরণকারীদের জন্য একটু দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাঁদের বেহেশত নসীব করেন। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধু একটা লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি- আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন। কাজেই, এই দেশের মানুষষ দারিদ্র থেকে মুক্তি পাবে, সুন্দর জীবন পাবে, ভালোভাবে বাঁচার অধিকার পাবে এবং গত ৯ বছরে আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন দেশের কি পরিমান উন্নয়ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে এদেশে ইসলামের প্রসারে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন এদেশে আওয়ামী লীগ সব সময় ইসলামের খেদমতে নিবেদিত,  তাঁর সরকারই প্রথম সরকারি পর্যায়ে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে আরবি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পবিত্র কুরআনের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করেছে। মানবসম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, মসজিদের ইমামগণকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কুরআনের শিক্ষা প্রচারের উদ্দেশ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্যোগ মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ হবে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৭২২ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণে ৮০ শতাংশ জায়গাও নির্ধারণ করা হয়ে গেছে।