খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বর রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে মন্তব্যের মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আজ ১১ জুলাই বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ এ পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, আজ এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। এছাড়া আগামী ৭ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।

তিনি জানান, গত ১ জুলাই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে খালেদা ও গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক জাফর আলী।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, আজকে বলা হয় এত লক্ষ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।

অন্যদিকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গেছেন। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন, তাঁরা নির্বোধের মতো মারা গেলেন। আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাঁদের কবরে ফুল দেই। আবার না গেলে পাপ হয়। তাঁরা যদি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কীভাবে।

এসব বক্তব্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর ১শ’ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।