জানুয়ারি ১৮, ২০১৭

ঈদুল ফিতর: মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

390মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে রোজাদারদের জন্য বিশেষ একটি পুরস্কার হচ্ছে ‘ঈদুল ফিতর’। ঈদ আরবি শব্দ। শাব্দিক অর্থ হচ্ছে আনন্দ-খুশি, প্রত্যাবর্তন করা, ফিরে আসা। আর ফিতর শব্দটি এসেছে ‘ফিতরা’ ধাতু থেকে। ফিতর শব্দের অর্থ হচ্ছে ভেঙ্গে ফেলা, সাদকা, ফিতরা। ঈদুল ফিতরের সমষ্টিগত অর্থ হচ্ছে রোজা ভঙ্গের ঈদ। ঈদ শব্দটির আরেকটি অর্থ হচ্ছে ফিরে আসা। যেহেতু প্রতি বছর ঈদ মুমিনদের মাঝে আনন্দ-খুশির বার্তা নিয়ে উপস্থিত হয় সে জন্য ঈদকে ঈদ বলা হয়।

ঈদের সূচনা: হিজরতের পূর্বে ঈদ প্রথার প্রচলন ছিল না, বরং ঐ সময় মদিনার আনসারগণ বসন্ত ও পূর্ণিমার রাত্রে, ‘মিহিরজান’ ও ‘নওরোজ’ নামে দু’টি উৎসব পালন করতেন। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- এক দিন নবী করিম (সা) হিজরত করে মদিনায় তাশরিফ নিয়ে দেখতে ফেলেন মদিনাবাসীরা, ‘নববর্ষ ও মেহেরজানের’ দু’টি উৎসব পালন করছে, তখন মহানবী (সা) তাদেরকে জিজ্ঞাস করলেন তোমরা এ দু’দিনে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠ কেন? মদিনার আনসার এবং নওমুসলিমগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল আমরা জাহেলী যুগে এ দু’দিনে আনন্দ উৎসব করতাম, যা আজ পর্যন্তও প্রচলিত। তখন রাসুল (সা) তাদেরকে বললেন আল্লাহ তা’য়ালা তোমাদেরকে সেই দু’টি উৎসবের পরিবর্তে দু’টি উৎসব তোমাদেরকে দান করেছেন। সে দু’টি উৎসব হচ্ছে, ১. ঈদুল ফিতর। ২. ঈদুল আজহা। (আবু দাউদ )

ঈদের তাৎপর্য অপরিসীম। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এরশাদ করেন, ‘ঈদুল ফিতরের দিন যখন আসে তখন আল্লাহ তায়ালা রোজাদারদের পক্ষে গর্ব করে ফেরেশতাদেরকে বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ তোমরাই বল রোজাদারদেরকে রোজার বিনিময়ে আজকের এই দিন কি প্রতিদান দেওয়া যেতে পারে? সেই সমস্ত রোজাদার যারা তাদের দায়িত্ব পুরোপুরী আদায় করেছে, তখন ফেরেশতারা আল্লাহকে বলেন, হে দয়াময় আল্লাহ উপযুক্ত উত্তম প্রতিদান তাদেরকে দান করুন। কারণ তারা দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা করেছেন, প্রাপ্য পারিশ্রমিক তাদেরকে দান করুন। তখন আল্লাহ তায়ালা রোজাদারকে বলতে থাকেন, ‘হে আমার বান্দা তোমরা যারা যথাযথ ভাবে রোজা পালন করেছ, তারাহবীর নামায পড়েছ, তোমরা তাড়াতাড়ি ঈদগাহের মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য যাও এবং তোমরা তোমাদের প্রতিদান গ্রহণ কর। ঈদের নামাজের শেষে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে বলতে থাকেন, হে আমার প্রিয় বান্দারা আমি আজকের এ দিনে তোমাদের সকল পাপ গুলোকে পুণ্যের দ্বারা পরিবর্তন করে দিলাম। অতএব তোমরা নিষ্পাপ হয়ে বাড়ীতে ফিরে যাও’(বায়হাকি ও মিশকাত )

মহানবী (সা) ইরশাদ করেন-‘ঈদের আনন্দ শুধু তাদের জন্য যারা রমজানের রোজা, তারাবীসহ যাবতীয় আল্লাহর বিধি-বিধান গুরুত্ব সহকারে আদায় করেছে। আর যাহারা রমজানের রোযা ও তারাবীহ আদায় করেনি তাদের জন্য ঈদের আনন্দ নেই, বরং তাদের জন্য ঈদ তথা আনন্দ অগ্নিশিখা সমতুল্য। (বুখারি)

মহানবী (সা) হাদিসের মধ্যে আরো ইরশাদ করেন যে, ‘যারা রমজানে রোযা রাখেনি তারা ঈদের নামাজে সু-সংবাদ প্রাপ্ত মানুষের কাতারে শামিল হবে না। তাদের জন্য কোন আনন্দ নেই। আর যারা রোজা পালন করেছে, গরীবদেরকে নিজের মাল থেকে ফিতরা দিয়েছে শুধুমাত্র ঈদ তাদের জন্যই। তবে যাদের রোযা রাখার বয়স হয়নি অথবা বিশেষ কোন কারণে রোযা রাখতে পারেনি তারাও ঈদের এই আনন্দে শরীক হতে পারবে। কিন্তু যারা বিনা কারণে এবং অলসতা করে রোযা রাখেনি তাদের জন্য এ ঈদে আনন্দ নেই। এ ঈদ তাদের জন্য আনন্দ স্বরূপ নয়, বরং তিরষ্কার স্বরূপ’। (মুসলিম)

মহানবী (সা) আরো ইরশাদ করেন যে, ‘যে ব্যক্তি দু’ঈদের রাত্রে পূণ্যের প্রত্যাশায় ইবাদত-বন্দেগী করে কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার, অর্থাৎ কিয়ামতের দিন অন্যান্য লোকদের অন্তর মরে যাবে, কিন্তু কেবল সেই ব্যক্তির অন্তর জীবিত থাকবে, সেদিনও মরবে না’।-(আতরাগিব)

রাসুলুল্লাহ (সা) এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি পূণ্যময় ৫টি রাতে ইবাদত-বন্দেগী করে সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ রয়েছে, আর সেই সুসংবাদটি হচ্ছে ‘জান্নাত’।পূণ্যময় ৫টি রাত হলো: ১. ঈদুল ফিতর। ২. ঈদুল আজহা। ৩. শবে বরাত। ৪. জিলহজ্জের রাত। ৫. আরাফাতের রাত। (বায়হাকি)