পটিয়া মাদরাসায় তাবলীগী জোড় অনুষ্ঠিত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মাহবুবুল মান্নান


জামেয়া সলামিয়া পটিয়ার জামে মসজিদে গতকাল বুধবার(১১ জুলাই) বাদে এশা এক তাবলীগী জোড় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোড়ে উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা আমিনুল হক। বিশেষ মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া আহলিয়া হাটহাজারীর সিনিয়র শিক্ষক মুফতি জসীমুদ্দিন। উদ্বোধনী নসীহত পেশ করেন জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া।

উদ্বোধনী নসীহতে মুফতি শামসুদ্দীন জিয়া বলেন,ওলামায়ে কেরাম হলেন, রাসুলের ওয়ারিশ। একজন ব্যক্তি তার পিতার সবকিছুর ওয়ারিশ হয়ে থাকে। এমন নয় যে, কিছু জিনিসের ওয়ারিশ হয় আর কিছু জিনিসের ওয়ারিশ হয় না। তেমনি আমাদেরকেও আম্বিয়ায়ে কেরামের সবকিছুর ওয়ারিশ হতে হবে। আমরা আম্বিয়ায়ে কেরামের যেমনি ইলমের ওয়ারিশ তেমনি তাঁদের আমলেরও ওয়ারিশ, তাঁদের দাওয়াতের কাজের ও ওয়ারিশ। তাই, আমাদেরকে দাওয়াতী কাজে আরও বেশী বেশী অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে ছাত্র জীবনে দাওয়াতী কাজ হলো টুকটাক আর ফারেগ হওয়ার পর ঠিকটাক। দাওয়াতের কাজকে পরিবেশ- পরিস্থিতি বুঝে করতে হবে। তাই, ইলমের সাথে সাথে দাওয়াতের কৌশল আয়ত্ব করার জন্য আমাদেরকে ছুটির সময়ে দাওয়াতে তাবলীগে সময় ব্যয় করা উচিত।

মুফতি জসীমুদ্দিন বলেন, বিশ্বময় একই তরীকায় কাজ করার একটি উত্তম রাস্তা হলো তাবলীগ জামাত। এই জামাত দেওবন্দের সুযোগ্য সন্তানদের হাতের গড়া জামাত। যখনই এই জামাতে কোন ধরণের পরিবর্তন দেখা যাবে তখনই আমাদের ওলামায়ে কেরামগনকে তা সংশোধন করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।

মুফতি জসিমুদ্দীন আরো বলেন, মাওলানা ইলিয়াছ রহ. বলতেন, এই দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষকে সৃষ্টি থেকে বিমুখ করে স্রষ্টা মূখী করতে হবে। এটিই আমাদের মূল মিশন। সুতারাং আমরা মানুষকে আল্লাহর দাওয়াত দিব, কোন ব্যক্তির দাওয়াত দিবনা। তবে, কারো সাথে ঝগড়া করবো না। তাদেরকে বুঝিয়ে বলব মূল সমস্যার কথা। মূলতঃ কাফির- মুশরিকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই মেহনতকে নষ্ট করার জন্য। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। এবং এই কাজকে আন্তরিকভাগে গ্রহণ করতে হবে। তার তাকাজা অনুযায়ী সুযোগমত বেশী বেশী আল্লাহর রাস্তায় বের হতে হবে।

শেষে ছাত্র-শিক্ষক, দেশ ও উম্মাহর জন্য দোয়ার মাধ্যমে জোড় সমাপ্ত হয়।