জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

শোলাকিয়ায় বোমা হামলা: ২ পুলিশ ও এক হিন্দু নারীসহ নিহত ৪

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

146751_1শোলাকিয়া ঈদগাহে টহলরত পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জহিরুল ও আনসারুল হক নামে দুই পুলিশ সদস্য, ঝর্ণা রানী নামে এক হিন্দু নারী ও এক হামলাকারী নিহত হয়েছে।

পুলিশ সদস্য জহিরুল ও এক হামলাকারী ঘটনস্থলে মারা যান। অপর পুলিশ সদস্য আনসারুল হক ও হিন্দু নারী ঝর্ণা রানীর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪ জনে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ঈদগাহ ময়দান থেকে কয়েকশ’ মিটার দূরে আজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হামলাকারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে নিহত নারীর নাম ঝর্ণা রানী ভৌমিক। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম দুই পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, কনস্টেবল জহিরুলের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে। আর মাথায় গুলিবিদ্ধ আনসার উল্লাহ‘র মৃত্যু হয় বেলা ১২টার দিকে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। গুরুতর আহত ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে, পরে সেখান থেকে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়।

পরে আহতদের নিয়ে বেলা সোয়া ১২টার দিকে একটি হেলিকপ্টার ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন-কনস্টেবল জুয়েল, মশিউর, প্রশান্ত, রফিকুল ও তুষার এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নয়ন।

কিশোরগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মোশাররফ হোসেন জানান, শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের আগে স্থানীয় আজিমুদ্দিন স্কুলের সামনে টহল পুলিশের উপর শক্তিশালী ককটেল হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়। আহতদের কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল ইসলাম মারা যায়। পরে পুলিশ-সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক হামলাকারী নিহত হয়েছে।

তবে শোয়াকিয়া মাঠে যেখানে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সেখানে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত আছে। ফলে সেখানে নিরাপত্তার কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। তবে আজিমুদ্দীন স্কুল মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় শোলাকিয়ায় আগত মুসল্লিদের মধ্যে ভয়ভীতির সঞ্চার হয়।