উলূমুল হাদীসের পাঠ | হাদীসের পরিভাষাগুলো কিভাবে আত্মস্থ করবেন?

মুফতী হারুন ইজহার | লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্র চিন্তক


অলংকরণ : মাঈদ | নামলিপি : আ ফ ম আকরাম হুসাইন

মুখস্থবিদ্যা এক মারত্মক ক্ষতিকর অনুষঙ্গ। আপনি কখনও না বুঝে হাদীসের বিভিন্ন প্রকার, তার নাম ও সংজ্ঞাসমূহ মুখস্থ করতে যাবেন না।

কোন একটা শাস্ত্রের বিষয়সমূহকে আত্মস্থ করা এবং মনে রাখার কৌশল হলো শাস্ত্রের মূল সূত্রকে বুঝা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে ঐ সূত্রের সাথে আবদ্ধ করা।

হাদীসের ভাগ ও প্রকারসমূহ প্রধানতঃ সনদের সংখ্যাগত দিক থেকে। অর্থাৎ প্রতিটি স্তরে বর্ণনাকারীর সংখ্যা একটা বড় ফ্যাক্ট।
কেন সনদের সংখ্যার গুরুত্বটা সর্বাগ্রে?

এর কারণ হলো, যেহেতু কুরআনের মত হাদীস পুরোটই قطعي বা অকাট্য নয় তাই হাদীসের গ্রহণযোগ্যতায় একটা ক্যাটাগরি স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয়ে যায়। মানে হাদীসের একটা অংশ ‘কত্ঈ’ আরেকটা ‘যন্নী’ অর্থাৎ যার প্রামাণিকতা অকাট্য নয়।

প্রশ্ন হলো এই কতই’য়্যতের মাপকাঠি কি?
হ্যাঁ, তার মাপকাঠি হলো বর্ণনাকারীর সংখ্যাগত বাহুল্য, মিথ্যার উপর যাদের ঐক্যমত্য নানা কারণে অসম্ভব। কুরআন এজন্যই কত্ঈ’ বা অকাট্য যেহেতু তা বিপুল সংখ্যক বর্ণনার সূত্রে আমাদের পর্যন্ত পৌছেছে।
হাদীসের যে অংশটি বেশি সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত তাকে متواتر বলা হয়।
এমনটা না হলে তা آحاد বলে পরিচিত।
আগেই বলেছি প্রথমটার প্রামাণিকতা অকাট্য বা قطعي আর দ্বিতীয়টার প্রামাণিকতা অনাকাট্য বা ظني।

আপনারা জানেন آحاد যদি ৩ বা ততোধিক জনের (মুতাওয়াতিরের সংখ্যার চেয়ে কম)দ্বারা বর্ণনায়িত হয় তাহলে তাকে مشهور, যদি
২ জনের দ্বারা হয় তাহলে عزيز, আর রাবী বা বর্ণনাকারী শুধু ১জন হলে তাকে বলা হবে غريب।

সংখ্যার মাপকাঠিতে ভাগ ও ক্যাটাগরিকৃত হাদীসের উক্ত পরিভাষা ও তার হুকম মুহাদ্দিসীন এবং ফুকাহার উভয় মানহাজে (মৌলিকভাবে) একই, কিছু সমান্য মতের ভিন্নতা ছাড়া।

হাদীসের সনদের সংখ্যাগত উক্ত পরিভাষাগুলো অল্প এবং তা সহজেই মনে রাখার মত এবং এটাতে মানহাজগত মতানৈক্যর প্রবলতাও নেই।

এখন আমাদের পরবর্তী আলোচনা হবে
ঐ যে آحاد, তার নানা প্রকারের ভাগ এবং তার নানা পরিভাষার আলোচনা।

মনে রাখতে হবে উলূমুল হাদীস বা উসূলু হাদীসের আলোচনায় متواتر নিয়ে বিশদ আলোচনা নেই, এটা নিয়ে মানাহজগত বেশি বিতর্কও নেই। সুস্পষ্ট অকাট্যতার কারণে তার বেশি ক্যাটাগরি ও পরিভাষাও নেই।
হাদীসের বেশির ভাগ পরিভাষাসমূহ آحاد এর সাথে সংশ্লিষ্ট।

[মুতাওয়াতিরের হুকম অর্থাৎ তা কিভাবে কাতই’য়্যাতের দ্বারা يقين এর ফায়দা দেয় এ সংক্রান্ত বাকি আলাপ আমরা পরে করব খবরে ওয়াহিদের হুকমের আলোচনার সাথে। ]

পরবর্তী এ শিরোনামে আমরা আপনার কাছে ফিরে আসবো – “খবরে ওয়াহিদের পরিভাষাগত প্রকারসমূহ “