দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তির উপায়

দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তির উপায়

সংকলনে: সোহেল আহম্মেদ


এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল যার কোন ধরনের দুশ্চিন্তা বা টেনশন নেই। বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তা সব সময় মানুষকে ঘিরে রাখে। কারো জীবনে দুশ্চিন্তা একটি রোগ হয়ে দাঁড়ায়। এটা থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার চেষ্টা তদবির করে, ঔষধ সেবন করে। এর পরও কি সম্পূর্ণ মুক্তি মিলে এই দুশ্চিন্তা থেকে?

আবার বিভিন্ন কারনে মানুষ কখনো কখনো ঋনগ্রস্ত হয়ে যায়। এক ঋণ পরিশোধের জন্য অন্য ঋণের আশ্রয় নেয়। এক সময় বিশাল ঋণ পরিশোধের মত কোন উপায় থাকেনা তাঁর হাতে। নিরোপায় হয়ে কেউ কেউ বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ।

সুপ্রিয় পাঠক, আসুন হাদীসের আলোকে জেনে নেই, দয়ার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কি আমল বাতলিয়েছেন।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে আসলেন।একজন আনসারী ব্যক্তির উপর তার দৃষ্টি পড়ল যার নাম ছিল আবু উমামাহ্। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আবু উমামাহ্! কি ব্যাপার, আমি তোমাকে নামাযের সময় ব্যতিত অন্য সময়ে মসজিদে (পৃথকভাবে)বসে থাকতে দেখছি? হযরত আবু উমামাহ্ (রাঃ) আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্,দুশ্চিন্তা ও ঋণ আমাকে ঘিরে রেখেছে।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি তোমাকে একটি দুআ শিখিয়ে দিব । যখন তুমি ইহা পাঠ করবে, আল্লাহ্ তাআলা তোমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিবেন ও ঋণ পরিশোধ করে দিবেন। হযরত আবু উমামাহ্ (রাঃ) আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! অবশ্যই শিখিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সকাল বিকাল এই দুআ পাঠ করো-
আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজান,ওয়া আঊযুবিকা মিনাল আযজি ওয়াল কাসাল, ওয়া আঊযুবিকা মিনাল যুবনি ওয়াল বুখ্ল, ওয়া আঊযুবিকা মিন গালাবাতিদ্দাইনি ওয়া ক্বাহরির্ রিজাল।
অর্থ- হে আল্লাহ্ আমি চিন্তা ও পেরেশানী হতে আপনার আশ্রয় গ্রহন করছি এবং অক্ষমতা ও অলসতা হতে আপনার আশ্রয় গ্রহন করছি এবং কৃপণতা ও কাপুরুষতা হতে আপনার আশ্রয় গ্রহন করছি এবং ঋনের ভারে ভারগ্রস্ত হওয়া থেকে ও আমার উপর পাওনাদারের চাপ হতে আপনার আশ্রয় গ্রহন করছি।

হযরত আবু উমামাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি (কিছুদিন) সকাল বিকাল এই দুআ পড়লাম। আল্লাহ্ তাআলা আমার সমস্ত চিন্তা দূর করে দিলেন এবং সমস্ত ঋণও পরিশোধ করাইয়া দিলেন। (আবু দাউদ)