ইলমের বরপুত্র মাওলানা আবদুল মালেক | দ্বিতীয় পর্ব

আতাউল কারীম মাকসুদ | পরিচালক,মাদরাসাতুশ শায়খ ইউসুফ বানুরী রহ,


মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক৷ ক্ষণজন্মা এক মহিরুহ৷ হাদীস ও ফিকহের অবিংসংবাদিত বিশ্লেষক৷ মুতাকাদ্দিমীনের ইলম সম্পর্কে সজাগ এক বিরল ব্যক্তি৷ ভাগ্যের বিষয় যে, এই মহিরুহের জন্ম আমাদের বাংলাদেশেই৷এ মাটির বুকেই তিনি বড় হয়েছেন৷ এদেশই তার কর্মক্ষেত্র৷ প্রসিদ্ধি ও পরিচিতি লাভের চলমান উপায়গুলো গ্রহণ না করার কারণে তাকে অামরা হয়ত চিনতে পারি নি(!)৷ কিন্তু বিশ্বের সচেতন উলামায়ে কেরাম মাওলানা আব্দুল মালিকের যথাযথ কদর করেন৷ এজন্যই তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ইসলামী স্কলারদের মাহফিলে বারবার আমন্ত্রিত হন তিনি৷ হিন্দুস্তানের মাজমাউল ফিকহীর কেন্দ্রীয় সেমিনারে তাকে গুরুত্ব দিয়ে দাওয়াত করা হয়৷ তিনি তার চিরাচরিত বিনয়ের কারণে এতদিন হাজির না হলেও গতবার তারা -নাছোড় বান্দা-এক প্রকার বাধ্য করেই নিয়ে যায়৷ সফরসঙ্গীদের অভিব্যক্তি হলো,বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামের মত হিন্দুস্তানের উলামায়ে কেরামের কাছে ও তিনি সমভাবে সমাদৃত৷ এমনকি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলারদের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত তিনি৷ এই প্রবন্ধে বড়দের কিছুমাত্র মন্থব্য উল্লেখ করছি৷
১) ইলমী আলোড়ন সৃষ্টিকারী বরেন্য মুহাদ্দিস, বহু কালজয়ী কিতাবের রচয়িতা, তরজুমানে হানাফিয়্যাত,আল্লামা আব্দুর রশীদ নো’মানী রহ, তার লিখিত আল মাদখাল কিতাব দেখে বলেন-
انا سررت بكتابك المدخل كثيرا

তোমার “আল মাদখাল” কিতাব দেখে আমি অনেক আনন্দিত!
তিনি হযরত মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব দা:বা:কে ফিকহ পড়ার জন্য শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের হাতে তুলে দেন৷ তখন তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের কাছে লিখিত পত্রে তিনি বলে দেন;
يه طالب علم كيسا ہے جب آپ اسکو پڑھائےگا تب سمجھ میی آئیگا

এই তালিবে ইলম কী পরিমাণ যোগ্যতাসম্পন্ন, কত গভীর ইলমের অধিকারী, তাকে পড়ালেই তা বুঝতে পারবেন৷

২) আরব বিশ্বের সমাদৃত মুহাদ্দিস,মুসলিম উম্মাহর গৌরব শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ,তার সম্পর্কে বলেন-
يدعي انه استفاد مني ولكني استفدت منه كثيرا
لعله يفوق علي بعض شيوخه وانا اول منهم
তিনি দাবী করেন যে,আমার কাছ থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন অথচ আমি দেখি তার থেকে আমিই অনেক উপকৃত হয়েছি৷ সে তার অনেক উসতাদের থেকেও এগিয়ে যাবে৷ সে সকল উসতাদদের মধ্যে অামি হবো প্রথমজন৷

৩) শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী দা:বা: হযরতের লিখিত আল মাদখাল দেখে অভিভূত হয়ে পরেন৷ মাও: বুরহানুদ্দীন রব্বানী সাহেব বলেন:আমি কিতাবটি হযরতের কাছে পৌঁছে দিলে দীর্ঘক্ষণ তিনি আব্দুল মালেক সাহেবের গুণকীর্তন করেন৷
এবং তিনিই তাকে বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহিমাহুল্লাহু তাআলার কাছে পাঠান৷

৪)দারুল উলুম দেওবন্দের শায়খুল হাদীস ও সদরুল মুদাররিসীন হযরত পালনপুরী দামাত বারাকাতুহুম তার লিখিত আল মাদখালের ভূমিকায় বলেন-
فقدراقني واعجبني كتاب الاستاذ المجد الموفق الشيخ عبد المالك
আল্লাহ তাআলার বিশেষ তাওফীকপ্রাপ্ত,ও ইলমব্যস্ত এই উস্তায ও শায়েখের কিতাব আমাকে বিমোহিত,বিস্মিত করে দিয়েছে৷

এভাবে বিশ্বখ্যাত জ্ঞানমনীষীরা তাকে সমীহ করেন৷ তার ইলমি যোগ্যতার ভুয়শী প্রশংসা করেন৷ মহান আল্লাহ তাআলা তাকে সালামাতের সাথে দীর্ঘ জীবন দান করুন৷