মার্চ ২৬, ২০১৭

মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানসমুহে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

2016-07-10_122124 2016-07-10_122141পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার ১৫টি দর্শনীয় স্থানে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পদভারে মুখরিত ছিল।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনিন্দ্যসুন্দর নিসর্গের মায়াপুরী খ্যাত মৌলভীবাজারের নৈসর্গের এ প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো দেখতে ছুটে এসেছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষ। উপচে পড়া ভিড় ছিল প্রায় সবকটি দর্শনীয় স্থানসমুহেই।

বড়লেখার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, কমলগঞ্জের নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক ও হামহাম জলপ্রপাত, ধলাই সীমান্তের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ, কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বধ্যভূমি৭১, হোটেল গ্যান্ড সুলতান, বাংলাদেশ চা গবেষনা কেন্দ্র, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, নীল কন্ঠের সাত রঙ্গের চা, বর্ষীজোড়া ইকোপার্ক, মনু ব্যারেজ, কুলাউড়ার দোলনচাপা ইকোপার্ক, গাজীপুরের গগণ টিলা, পৃথিমপাশার নবাব বাড়ী, মুরইছড়া ইকোপার্কসহ জেলার সব উপজেলার চা বাগানগুলোতে ঈদের ছুটিতে দেশী বিদেশী পর্যটকসহ হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।

গত ৭ জুলাই থেকে দর্শনীয় স্থানসমুহে দেশী-েিবদশী পর্যটকদের আনাগানো শুরু হয়ে আজ ১১ জুলাই রবিবার (এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) উপচে পড়া ভিড় অব্যাহত রয়েছে।

পর্যটকদের ভিড় সামলাতে পর্যটন সহায়ক পুলিশ ও টুরিষ্ট গাইডের সদস্যদের রিতিমত হিমশিম খেতে দেখা গেছে। সরেজমিনে মাধবকুন্ড বন বিভাগ, ইজারাদার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস এবং বাস বোঝাই করে মাধবকুন্ড জলপ্রপাাত দেখতে ভিড় করছেন ভ্রমণপ্রিয় মানুষেরা।

লোকে লোকারণ্য মাধবকুন্ড ইকোপার্ক এলাকা। ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার প্রায় ৬ হাজার, শুক্রবার প্রায় ৫ হাজার পাচশ ও শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ও আজ রবিববার সকাল পর্যন্ত প্রায় চারশ পর্যটকের আগমন ঘটেছে এ জলপ্রপাতে। প্রায় ২’শ ফুট উচ্চতা মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, বিশাল পাহাড়, শ্যামল সবুজ বনরাজি বেষ্টিত ইকোপার্ক, পাহাড়ি ঝরনার প্রবাহিত জলরাশির কলকল শব্দ সবমিলিয়ে মাধবকুন্ড বেড়াতে গিয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, মাধবকুন্ডে জলপ্রপাতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্টসহ শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাহাড় এলাকার রিসোর্টগুলোতেও দেশী বিদেশী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটকদের ভিড় রয়েছে। এসব এলাকায় সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি রিসোর্টগুলো তাঁদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছে। গ্রান্ড সুলতান রিসোর্ট এর এসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার আরমান খাঁন জানান, বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় বরাবরের মতো এবারও ঈদে পর্যটকদের প্রচুর ভিড় বাড়ছে।

শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা ঈদ উপলক্ষে প্রচুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিশেষ বিশেষ পর্যটন এলাকায় প্রচুর নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, পর্যটন স্পটে যাতে কোন পর্যটন হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য স্পটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সবসময় কড়া নজরদারিতে ছিল।