জানুয়ারি ২৩, ২০১৭

শাওয়ালের ছয় রোজা

শাওয়ালের ছয় রোজা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

 এহসান বিন মুজাহির তরুণ আলেম, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক


এহসান বিন মুজাহির
তরুণ আলেম, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক


শাওয়াল মাস মাহে রমজানের পরবর্তী মাস। শাওয়াাল শব্দটি ‘শাওলুন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে বের হওয়াা। যেহেতু এ মাসে আরববাসী আনন্দ-উল্লাসের জন্য ভ্রমণে বের হয় এজন্য শাওয়াল মাসকে শাওয়াাল বলে হয়। (গিয়াসুল্লুগাত-২৮৭)

রমজান পরবর্তী ফজিলতপূর্ণ মাসগুলোর মধ্যে শাওয়াল অন্যতম। শাওয়াল মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে শাওয়ালের ছয় রোজা। রমজানের ফরজ রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখা মুস্তাহাব। এ আমলের ফজিলত বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে এ রোজা রেখেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামদেরও শাওয়াল মাসের রোজা রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। শাওয়ালের ছয় রোজাসহ নফল ইবাদতগুলো ফরজের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোর ক্ষতি পূরণ করে। শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত সম্পর্কে মুসলিম শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-‘যে ব্যক্তি রমজানের ফরজ রোজা রাখলো, অতঃপর তার সঙ্গে সঙ্গে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখলো, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখলো। (মুসলিম : ১ম খন্ড ৩৬৯পৃ: হাদিস নং১১৬৪)

তিরমিজি শরিফে উল্লেখ আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যারা পবিত্র রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়ালের আরও ছয়টি রোজা রাখবে তারা সেই ব্যক্তির মতো হয়ে যাবে, যে ব্যক্তি সদ্য তার মায়ের পেট থেকে দুনিয়াতে আগমন করেছে’। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও এরশাদ করেন- ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে ছয় দিন রোজা রাখবে, সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য’। (আহমাদ: ৫:২৮০, দারেমি: ১৭৫৫) হজরত উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারবো? তদুত্তরে রাসূল (সা.) বললেন, তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে। কাজেই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের ফরজ রোজা রাখো এবং রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালের ছয় রোজা রাখো। তাহলেই তুমি সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে। (তিরমিজি: ১ম খন্ড, ১৫৭পৃস্টা)

হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে যে, রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর শাওয়াালের ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান; এই হলো এক বছরের রোজা। পূর্ববর্তী যুগের আলেমরা এর পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, আল্লাহ তায়ালা কুরআন কারিমের সূরা আনআমের ১৬০ নাম্বর আয়াতে এরশাদ করেন, যে লোক একটি নেক কর্ম আনজাম দেবে, সে লোক দশ গুণ বেশি সওয়াব পাবে। সে হিসাবে রমজানের ত্রিশ রোজায় তিনশ’ রোজার সওয়াব হয়। আর শাওয়ালের ছয় রোজায় ষাট রোজার সওয়াব হয়। এভাবে রমজানের ৩০ রোজা এবং শাওয়ালের ৬ রোজা মোট ৩৬ রোজাকে দশ দিয়ে গুণ করলে গুণফল হয় ৩৬০। ৩৬৫ দিনে বছর হলেও ইসলামী শরিয়ত বছরের ৫ দিন রোজা রাখাকে হারাম করেছে। সে হিসাবে ৩৬০ দিন মানে পুরো বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায় এই আমলের মাধ্যমে।

শাওয়ালের ছয় রোজা মাসের যে কোনো দিন রাখা যায়। তবে রমজানের কাজা রোজা আগে পূরণ করে শাওয়ালের রোজা পালন করা উত্তম। শাওয়ালের ছয় রোজা শাওয়াল মামে শুরু করে শাওয়াল মাসেই শেষ করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ছয় দিনে ছয় রোজা রাখা যায়, আবার মাঝে বিরতি দিয়ে পৃথকভাবেও রাখা যায়। মনে রাখতে হবে যে, শাওয়ালের ছয় রোজার সওয়াব তারা পাবেন, যারা রমজানের রোজা সঠিকভাবে পালন করেছেন। কারণ রমজানের রোজা ফরজ আর শাওয়ালের রোজা মোস্তাহাব। মোস্তাহাব আমলের সওয়াব তখনই পাওয়া যায় যখন ফরজ পালন করা হয়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন- যে মাহে রমজানের পূর্ণ রোজা রাখবে, আর যার ওপর কাজা রয়ে গেছে সে তো রোজা পুরা করেছে বলে গণ্য হবে না, যতক্ষণ ওই রোজাগুলো কাজা আদায় না করে’। (আল মুগনি: ৪/৪৪০)

শাওয়াল মাসের ছয় রোজা পালন সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব প্রাপ্তির এমনি একটি পরম সুবর্ণ সুযোগ। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে শাওয়াল মাসের অশেষ ফজিলতপূর্ণ ছয়টি রোজা এখলাসের সাথে রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন ।
লেখক: সাংবাদিক, আলেম