জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

তরুণ হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডারের মৃত্যুতে তপ্ত কাশ্মীর, নিহত ১৫

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

3715668300_nস্বাধীনতাকামী হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানিকে হত্যা করার পর বিক্ষুব্ধ জম্মু-কাশ্মিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ২০০ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। শ্রীনগরসহ দক্ষিণ কাশ্মিরের বেশ কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে।

পরিস্থিতি দেখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা টুইট করেছেন, ‘‘মৃত বুরহান ওয়ানি জীবিত বুরহান ওয়ানির চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক।’’ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, জীবদ্দশাতেই বা কেন এমন স্বাধীনতাকামী হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রাল এলাকার এক সম্পন্ন পরিবারের ছেলেটি? বুরহানের বাবা মুজফ্ফর ওয়ানি ও বন্ধু আনায়েত আহমেদ যে কাহিনি শোনালেন তা একেবারে হিন্দি ছবির মতো। আনায়েত জানাচ্ছেন, ২০১০-এ এক দিন কার্ফুর মধ্যে তিনি ও বুরহানের দাদা খালিদ মোটরবাইকে দাদসারে গিয়েছিলেন খাবার কিনতে। সেখানে বুরহানকে দেখে ওকেও সঙ্গে নিয়ে ফিরছিলেন। পথে পুলিশের কয়েক জন তাদের আটকায়। আনায়েতের কথায়, ‘‘ওরা বলল, যা সিগারেট কিনে আন। আমরা রাজি হলাম না। সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হল মার।’’ মার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় খালিদ। বুরহান ও আমি ছুটে পালাই। তখনই বুরহান বলেছিল, বদলা নেব এর।’’

এর পরেই বুরহান যোগ দেয় হিজবুল মুজাহিদিনে। ক্রমে হিজবুলের নয়া মুখ হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়।  ২০১৫ সালের এপ্রিলে এক দিন দাদার সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে খবর পাঠায় বুরহান। দাদসারার জঙ্গলে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে ফিরছিল খালিদ। হঠাৎ তাকে ঘিরে ফেলে সেনারা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভারতীয় সেনা ও পুলিশ যৌথ অভিযানে বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। হিজবুল কমান্ডার নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রীনগর এবং দক্ষিণ কাশ্মিরের বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলৌমা ও শ্রীনগরের আংশিক অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়।

কারফিউ আর বাধা উপেক্ষা করে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান মুজফফর ওয়ানির জানাজায় মানুষের ঢল নামে।