জানুয়ারি ১৮, ২০১৭

ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাবাদ মোকাবিলা করতে হবে: হেফাজত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

হেফাজতকিশোরগঞ্জে শোলাকিয় ঈদগাহে টহলরত পুলিশ ও নিরীহ মানুষের উপর সন্ত্রাসী হামলা এবং পুলিশের আইজিপি কতৃর্ক হেফাজতকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।

সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা বলেন বলেন, আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও যারা হত্যাকাণ্ড চালায় তারা ইসলাম ও মানবতার শত্রু। নাগরিক হিসেবে আমরা কেউতো নিরাপদ নই। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীও কন্ট্রোল করতে ব্যর্থ । পুলিশ প্রধানের কাজ হলো তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। হেফাজতকে ঘায়েল করা তার দািয়ত্ব নয়। হেফাজত সম্পর্কে আইজিপির বক্তব্য অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।

তারা বলেন, হেফাজত ও আালেম সমাজ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত। কারো কথায় নয়, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, জুলম নিযার্তন, দুনীর্তি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা ঈমানী দায়িত্ব হিসেব সবসময় সোচ্চার ছিলাম আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাল্লাহ। কারো চোখ রাঙ্গানীকে আলেমরা ভয় করে না।

হেফাজতে ইসলাম নেতৃদ্বয় আরো বলেন, সরকারের উচিৎ দেশের ওলামা পীর মাশায়েখ, সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকক ও রাজনৈতিক দলগুলোসহ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ করা। সরকার যদি ব্যর্থ হয়প তাহলে দেশ মহা বিপদের সম্মুখীন হবে। এই জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে। দেশ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র কোন অবস্থায় মেনে যায়না।

তারা ববলেন, ইসলাম ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা আলেম সমাজ যে নিঃস্বার্থ কাজ করছেন তা স্মরণীয়। কিন্তু সরকারের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা বামপন্থি ও ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীর সম্মিলিত মিহথ্যাচার কওমি মাদরাসা ও আলেম সমাজকে ঘায়েল করতে পারেনি বরং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের প্রজনন কেন্দ্র যে সরকার স্বীকৃত ও নিয়ন্ত্রিত আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজকের দিনে সুস্পষ্টভাবে তাই প্রমাণিত। শান্তিপ্রিয় আলেম ওলামাদের সমাজে হেয় করে যারা পায়দা লুটতে চেয়েছিল তারা মূলত ইসলামবিদ্বেষী আধিপত্যবাদী আগ্রাসী শক্তির এজেন্ট। এদের মিথ্যা ভিত্তিহীন প্রচারণা ও উস্কানিমূলক বক্তব্যই দেশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সৃষ্টির মূল কারণ।

হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন দেশে যেসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হামলা, নাশকতা ও হত্যাকাণ্ডর ঘটনা ঘটছে তাতে বিশ্ববাসী শঙ্কিত ও আতঙ্কিত। সারাবিশ্বেই সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইহুদী-খ্রিস্টান সাম্রাজ্যবাদী ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী পরিচালিত সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম ও দলমত নির্বিশেষে সূদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, এসব হামলা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। যে কোন মূল্যে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতাসীনদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া আহবান জানাচ্ছি। তারা বলেন, পৃথিবীর কোন ধর্মই সন্ত্রাসকে পছন্দ করে না। ইসলামের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম কোন উগ্রতা, জঙ্গিবাদ ও সহিংসতাকে সমর্থন করে না। যারা এসব হামলার সাথে জড়িত তারা ইসলাম, মুসলমান ও বিশ্বমানবতার শত্রু।

হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলামে এ ধরনের অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মানুষ খুন করা, বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুহত্যা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। মক।হানবী সা. যু।ৃৃদ ময়দানেও নারী, শিশু ও বৃদ্ধকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। ইসলামের সাথে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলাম সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, কতিপয় ইসলামবিদ্ধেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদকে একাকার করে মুসলমানদের কলঙ্কিত করতে চায়।

হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, গুলশানে ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসীদের ন্যাক্কারজনক হামলায় আমরা স্তম্ভিত। গোটা জাতি উদ্ভেগ, উৎকণ্ঠা, আতংক ও অস্বস্থিতে ভুগছে। সরকারের নিকট আমাদের আহবান হলো দল মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। দেশের নাগরিক, বিদেশী কূটনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। দেশ ও জাতির অস্থিত্ব যেখানে হুমকির সম্মুখিন এমন বিষয়ে রাজনীতির নোংড়া খেলায় মত্ত না হয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনপূর্বক এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করুন। নিরপরাধ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।