হায়রে ওলামা হায়রে লীগ!

মিনার রশিদমিনার রশিদ ●  পেশায় ও পদবীতে ওলামা। বয়েসও একেবারে কম না, গুনে গুনে বাষট্টি। ওলামা লীগের উপজেলার সম্মানিত সভাপতি ও বগুড়ার সোনাতলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। নাম মাওলানা ফজলুল করিম। অদ্য বিকাল এক ঘটিকার সময়ে নিজের মাদ্রাসার কমনরুমে আলিম ক্লাসের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা খেয়েছেন।

দেশটা আজ আসলেই কোন দিকে যাচ্ছে তা ভাবতেই গা শিহরিয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের আগের টার্মে জুটেছিল এক সেঞ্চুরিয়ান মানিক। এই টার্মে পাওয়া গেছে আরো এক কালো মানিককে। তিনি হলেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

কী ভয়ংকর একজন মানুষকে দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের বিচারপতি বানানো হয়েছিল , অবশেষে তা টের পেয়েছেন আমাদের এটর্নি জেনারেল সহ সংশ্লিষ্ট সকলে।
অথচ বিচারপতি থাকাকালীন দেশের অনেক গুণীজনকে তিনি এজলাসে দাঁড় করিয়ে রেখে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন, বিচারপতির গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যালে লালবাতির কারণে আটকে দেয়ায় ট্রাফিক পুলিশকে কান ধরিয়ে ওঠবোস করিয়েছেন। সারা দেশ তখন এক ধরনের মানিকাতংকে থাকতো- কাকে কখন কোর্টে তলব করে বসেন।

তাঁর বিরুদ্ধে মারাত্মক মানি লন্ডারিংএর অভিযোগ উঠেছে। লন্ডনে তার একাধিক বাড়ি। সেই সব বাড়ি কেনার টাকা দেশ থেকে মানি লন্ডারিং-এর মাধ্যমে ট্রান্সফার করেছেন বলে জোর সন্দেহ করা হচ্ছে। বিচারপতি থাকাকালীন তিনি টকশোতে অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। অবসরে গিয়ে যখন অনেক মামলার রায় লেখা বাকি সে অবস্থাতেও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকা-ে অংশ গ্রহণ করেছেন। এই লোকটি কীভাবে সকল আইনের ঊর্ধ্বে উঠে গেলেন তা ভাবতেও অবাক লাগে।

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বলেছেন, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের সবর্নাশ করছেন। তিনি আরো বলেছেন, বিচারপতি মানিক তার আচরণে প্রমাণ করেছেন যে তিনি হতাশাগ্রস্ত, উন্মাদ।

উন্মাদ হওয়ার পরেও তিনি বিচারপতি হয়েছেন এবং অবসরে গিয়েও সকলের উপর আজো ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। আর এটা করতে পারছেন শুধু এই মাত্রাতিরিক্ত ‘লীগ’ হওয়ার কারণে।

দেশের মানুষ আজ সত্যিই অসহায়। তাদের আর কিছুই করার নেই। এই ধরনের সংবাদ শুনে মাঝে মাঝে মাথা চাপড়িয়ে শুধু এটাই বলতে পারবে, হায়রে ওলামা, হায়রে লীগ!

মিনার রশিদের ফেসবুক থেকে