ইসলামের শত্রুরা এমনই, ওরা মুসলিমদের শুধু ব্যবহার করে

আরিফ আজাদ


মেসুত ওজিল। জার্মান ফুটবল দলের অন্যতম তারকা ফুটবলার। ওজিলকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন বলে ধরা হয়। মুসলিম এই তারকা ফুটবলার ২০১৪ সালে জার্মানের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নেপথ্য নায়ক ছিলো। সম্প্রতি ওজিল জার্মান ফুটবল দল থেকে অবসর নিয়ে নিয়েছে। কারণ- ২০১৮’র রাশিয়া বিশ্বকাপে জার্মানী গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর থেকেই ওজিলকে তার পুওর পারফরম্যান্সের জন্য জার্মানরা নানান অকথ্য ভাষায় অপমান করেছে। সেই কটাক্ষের ক্ষতে লবণ লাগিয়েছে আরো একটি ব্যাপার। সেটা হলো- ওজিল কিছুদিন আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথে ফটোসেশান করেছে। তাছাড়া, ওজিল জার্মানীর নাগরিক হলেও মূলত সে তুর্কি বংশোদ্ভূত। প্রথমত বিশ্বকাপে পুওর পারফরমেন্স, দ্বিতীয়ত মুসলিম, তৃতীয়ত তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং চতুর্থত এরদোয়ানের সাথে ফটোসেশান কোনোভাবেই নিতে পারছেনা জার্মানীর মুক্তমনা সমাজ। রেসিজমের ধোঁয়া তুলে তাঁকে একহাত নিলে ওজিল পরে অবসর নিয়ে নেয়। ওজিল বলেছে-

“I am German when we win, but I am an immigrant when we lose”..

“My friends Lukas Podolski and Miroslav Klose are never referred to as German-Polish so why am I German-Turkish? Is it because it’s Turkey? Is it because I’m a Muslim?”

“I will no longer be playing for Germany whilst I have this feeling of racism and disrespect.”

খেয়াল করুন, এই সেই জার্মানী যারা আমাদের দেশের নাস্তিকদের এসাইলাম দেয়। থাকতে দেয়, পরতে দেয়, খেতে দেয়। হৃষ্টপুষ্ট করে তোলে। ওরা বলে- ‘আমরা মানুষের বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী’।
কিন্তু দেখুন, এই বাক স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা সবকিছুই কিন্তু নাস্তিক আর অমুসলিমদের জন্য। একজন মুসলিমের বেলায় তারা ঠিকই কঠোর, গোঁড়া আর সাম্প্রদায়িক।

এরপর, ফ্রান্সের শার্লি এবদোর কথা মনে আছে? রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে যে অশ্লীল কার্টুন ছাপিয়েছিলো। শার্লি এবদো হামলার পর তারা মুসলিমদের একহাত নিয়েছে। সেখানে থাকা মুসলিমদের নানানভাবে হেয়, হেনস্থা করেছে। দূর্বিসহ করে তুলেছে তাদের জীবন। সেখানে থাকা অভিবাসী মুসলিমদের ফিরিয়ে দেওয়া, তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার যে কি তোড়জোড় ফ্রান্সের!

কিন্তু, ফ্রান্স এবার যে স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জিতলো, সেই স্কোয়াডে মোট ৫ জন মুসলিম এবং সাতজনের মতো আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। কালো চামড়ার। এদের পরিবার নানা সময়ে, নানা প্রতিকূলতা মাথায় নিয়ে সেখানে ঠাঁই নিয়েছিলো। যখন গুঞ্জন উঠলো- ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্য নায়ক মুসলিম এবং আফ্রিকানরাই, তখন আবার এই ফ্রান্সই বলছে- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দিনশেষে সবাই ফরাসী। এখানে মুসলিম-আফ্রিকান ট্যাগ আসবে কেনো?
পুরোই ডাবল স্ট্যান্ড না? এই এরাই তো শার্লি এবদো ইস্যুতে একদম ভিন্ন সুরে কথা বলেছে।

ইসলামের শত্রুরা এরকমই। মুসলিমদের ব্যবহার করে এরা যখন তখন ফায়দা লুটবে। দিনশেষে নিজেদের মতো করে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্ম, রেসিজম ইত্যাদির ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে আপনাকে সুশীলতা শেখাবে। দ্যাটস দেয়ার রুল এন্ড মেথড।

ফ্রান্স এবং জার্মানীর মতো এরকম আজব কিছিমের কিছু প্রাণীর অস্তিত্ব আপনি আপনার চারপাশেও দেখতে পাবেন। এদের কাছে মুক্তমত, ব্যক্তিস্বাধীনতা, কথা বলার অধিকার, লিখার অধিকার, সাম্প্রদায়িকতা, সম্প্রীতির সংজ্ঞাগুলো সময়ে সময়ে পাল্টায়। যেমন ধরুন- শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কানে ধরায়ে উঠবস করালে এরাও কানে ধরে ছবি তুলে প্রতিবাদ করে। কিন্তু রাবিতে কোটা আন্দোলনের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কোন শিক্ষক যখন লাঞ্চিত হোন, বিশেষ এই গোষ্ঠী তখন শীতনিদ্রায় থাকে। আবার, জাফর ইকবালের উপর হামলা হলে এরা বাংলার আকাশ-বাতাস দাপিয়ে প্রতিবাদে ভেঙে পড়ে। কিন্তু মাহমুদুর রহমানদের উপর হামলা হলে এরা তখন ‘শালা মার খেয়েছে, বেশ হয়েছে’ বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে।

এসকল আজিব কিছিমের প্রাণীদের চিনে রাখুন। ভবিষ্যতে কাজে দিবে।