ইয়াহুদী জাতি রাষ্ট্র ও সংঘাতের স্বরূপ | মুফতী হারুন ইজহার

মুফতী হারুন ইজহার | লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্র চিন্তক


বিশ্বময় নানা অঞ্চলের সংঘাতগুলোর মধ্যে সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ জোন হলো মধ্যপ্রাচ্য। হাজার হাজার বছরব্যাপী দীর্ঘ সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের নজির মধ্যপ্রাচ্য নিজেই। এ অঞ্চলে সংঘাত ছিল, সংঘাত আছে এবং সংঘাত থাকবে।

ঘটনাচক্রগুলোর পর্যালোচনায় পশ্চিমারা যে বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করে, মুসলিম দেশের মিডিয়া ও বোদ্ধা মহল তা হুবহু অনুকরণ করেই সন্তুষ্ট থাকে।
(আমি বলছি পশ্চিমারা যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করে, পোষণ করে বলিনি।কেননা কূটনীতির সেক্টর পশ্চিমাবিশ্বে আগোগোড়া মুনাফেকির উপর প্রতিষ্ঠিত। তারা যে মূল ভিশন তাদের চিন্তা চেতনায় লালন করে, নানা মূখরোচক বাচনের ফুলঝুরি দিয়ে মুখে প্রচার করে অন্যটা)।

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণে আমরা চিরাচরিত পর্যবেক্ষণগুলোর সাথে দ্বিমত পোষণ করি।

সংঘাতের মূলে ধর্মীয় চেতনা:
আজকের ঘটনারাজি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকার নিয়ে প্রকাশিত হলেও তার অন্তর্নিহিত মূল জায়গায় ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টা মারাত্মক পর্যায়ে সক্রিয়।
ইয়াহুদীদের আধ্যাত্মিক পিতা Theodor herzl ইয়াহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার ৫০ বছর আগে এ পরিকল্পনার ব্যাপারে ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন যে “আমরা যে পতাকা উড়াতে চাচ্ছি তা অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মান আ.এর রাজত্ব হবে।”
এরপর বেশি দিন যায়নি পৃথিবীর বুকে ইসরাইল রাষ্ট্রের সেই টিউমারটি স্থায়ী টার্গেট নিয়ে তার আত্মপ্রকাশ ঘটালো।
ফিলিস্তিনের বুকে ইয়াহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধর্মীয় বিশ্বাসে অনেক খ্রিস্টানও একমত। বিশেষ করে প্রোটেস্টেন খৃস্টীয় সম্প্রদায় যারা বাইবেলকে তাওরাতের পাঠ মনে করে এবং মুকাদ্দাস কিতাব নামে ইয়াহুদী খৃস্টানদের এক ও অভিন্ন গ্রন্থে বিশ্বাসী।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির পিছনে অদৃশ্যভাবে ধর্মীয় চেতনা কতটা সক্রিয় তা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের এমন সব মন্তব্যসমূহ থেকে স্পষ্ট যেখানে তারা ফিলিস্তিনকে বাইবেলের ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’ মনে করে এবং ইয়াহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিজেদের গুরু দায়িত্ব বলে মনে করে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন তার রচিত একটি বইয়ে এক জায়গায় মন্তব্য করেন ‘ইসরাইলের সাথে আমাদের সম্পর্ক রাজনীতির চেয়েও অধিক আধ্যাত্মিক’।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্লাকস্টোন Jesus is coming নামক বইয়ে লিখেছেন ;ফিলিস্তিনে ইয়াহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জায়নাবাদী আন্দোলন সফল হোক বা নাহোক কিন্তু তাওরাতের ভবিষ্যতবাণী মোতাবেক ইয়াহুদী রাষ্ট্র কায়েম হবেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই Armageddon যুদ্ধে বিশ্বাস স্থাপন করেন। এটি তাদের ভাষায় যিশু এবং দাজ্জালের Antichrist মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।এ শব্দটি ইবরানী। আরবী হলো ‘হারমাজিদ্দু’। মাজিদ্দু ফিলিস্তিনের একটি এলাকা।

সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ‘পল ফান্ড লে’ তার বিখ্যাত বই The Dare to Speak -এ উল্লেখ করেন ; ধর্মীয় চেতনাই মার্কিনীদেরকে ইসরাইলী লবির ডাকে সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে অধিক ভূমিকা রাখছে।


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74