জানুয়ারি ১৮, ২০১৭

হাটহাজারী মাদ্রাসা নিয়ে জনকণ্ঠের মিথ্যাচারের কঠোর প্রতীবাদ জানালেন আল্লামা শফী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (2)‘নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বেশ কিছু মসজিদ মাদ্রাসার ওপর’ শীর্ষক ১১ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে হাটহাজারী মাদ্রাসাকে জড়িয়ে চরম মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজত আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

তিনি বলেন, দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা সম্পর্কে দৈনিক জনকণ্ঠের মিথ্যাচারিতা হতভম্ব হওয়ার মতো। জনকণ্ঠের সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “অনেক মাদ্রাসায় জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। মাদ্রাসায় সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায় না। এ জন্য মাদ্রাসাগুলোতে জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়”। তিনি বলেন, এই বক্তব্য নির্জলা মিথ্যাচার, উস্কানীমূলক এবং মাদ্রাসা তথা ইসলামী শিক্ষার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। যেখানে সম্প্রতি বিভিন্ন সন্ত্রাসী তৎপরতায় ধনী পরিবারের সন্তান ও দেশের অভিজাত বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নাম ধারাবাহিকভাবে আসছে, সেখানে জনকণ্ঠের মাদ্রাসা বিরোধী মিথ্যা প্রচারণা যে ইসলাম ও শান্তি বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ, তা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কারণ, জনকণ্ঠওয়ালারা দেশে অপরাধ, সা¤্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দূর করার জন্যেই ক্বওমি মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিতে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, দেশে প্রকৃত শান্তি স্থাপনের জন্যে এসব মিথ্যাচারিতা ও উস্কানী বন্ধে সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

হেফাজত আমীরের প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদপত্রে আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, প্রকাশনার শুরু থেকেই ইসলামের বিরুদ্ধে দৈনিক জনকণ্ঠের হলুদ সাংবাদিকতা ও মিথ্যাচারিতা সম্পর্কে দেশের সকলেই অবগত আছেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে নানাভাবে বারংবার আঘাত হেনে মুসলমানদেরকে বিক্ষুব্ধ করে চরমপন্থা ও জঙ্গীবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্যে পত্রিকাটি শুরু থেকেই গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু তাদের সেই পাতা ফাঁদে আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতা কখনো পা দেয়নি। একের পর এক মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক নিউজ করে পত্রিকাটি বার বার দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপচেষ্টা করেই চলেছে। হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ১১৭ বছরের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে কোন বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার তো প্রশ্নই ওঠে না, এমনকি কোন ফটকাবাজির মতো ক্রীড়ামোদের নজিরও কেউ দেখাতে পারবে না।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, “কবে কোন তারিখে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার তথ্য ও দলীল উপস্থাপন করে প্রমাণ করুন, আপনারা ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষাবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নন”। তিনি বলেন, আমি জানি জনকণ্ঠ কখনোই এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারবে না। আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, নানা অপপ্রচারের মুখে অসংখ্য বক্তৃতা, বিবৃতি ও সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা বার বার জানিয়েছি। কারণ, ইসলামের শিক্ষাও এটাই। অথচ ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের মিথ্যাচার বন্ধ করছে না।

প্রতিবাদপত্রে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, সরকার ও প্রশাসনকে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে উস্কানী দিয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদে ইসলাম বিদ্বেষী পত্রিকা দৈনিক জনকণ্ঠ আরো লিখেছে, “অনেক মাদ্রাসায় জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে”। তারপর লিখেছে, “মাদ্রাসায় সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায় না। এ জন্য মাদ্রাসাগুলোতে জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়”। তিনি এই অপপ্রচারেরও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশের মাদ্রাসাসমূহে জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না, বরং সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, চুরি-ডাকাতি, নারী নির্যাতন, খুন, গুম, অপহরণসহ সকল প্রকার জুলুম-অত্যাচার ও অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করে ছাত্রদেরকে আদর্শ মুসলিম ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, দেশের সকল ক্বওমি মাদ্রাসার কার্যক্রম প্রকাশ্যেই পরিচালিত হয়। অনেক স্কুল-কলেজের মতো দেশের যে কোন ক্বওমি মাদ্রাসার ক্যাম্পাসে প্রবেশে কোন বিধিনিষেধ নেই। যে কেউ যে কোন সময় বিনানোটিশে ক্বওমি মাদ্রাসাসমূহ ঘুরেফিরে শিক্ষাকার্যক্রমসহ সবকিছু দেখতে পারেন। ক্বওমি মাদ্রাসাসমূহের মসজিদে প্রতিদিন সর্বস্তরের মানুষ জামাতে শরীক হয়ে নামায আদায় করেন।
তিনি বলেন, চুরি-ডাকাতি, ব্যভিচার, খুন-গুম, অপহরণ, ঘুষ-দুর্নীতি, জুলুম-শোষণ ও অন্যায়-অত্যাচারসহ অপরাধে জড়িত এবং ভোগবাদি, অন্যায় ক্ষমতাভোগী, আধিপত্যবাদি মানুষের জন্যে মাদ্রাসা শিক্ষা ও আলেম সমাজ রীতিমতো অতংকের ও বড় ধরণের প্রতিবন্ধক। কারণ, আলেম সমাজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে, মানুষকে সঠিক উপায়ে ইবাদত-বন্দেগীর শিক্ষার পাশাপাশি সকল পর্যায়ের অপরাধ দূর করে আদর্শ পরিবার, সমাজ ও দেশ বিনির্মাণ। যে কারণে দেশের সর্বসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলেম সমাজ ও ক্বওমি মাদ্রাসাসমূহকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, যে বা যারাই আলেম সমাজ ও ক্বওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে মুখ তুলবে, বুঝতে হবে তারা কোন না কোনভাবেই অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হরহামেশাই খুন-খারাবি, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাস্তানী, কোপাকুপিসহ প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ার সচিত্র সংবাদ মিডিয়া প্রচার করে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদি কর্মকান্ডে কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা অহরহ ধরা পড়ছে। কিন্তু জনকণ্ঠওয়ালারা জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস বিস্তারের মিথ্যা অপবাদ লাগায় নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্র ও আলেম সমাজের উপর।

প্রতিবাদপত্রে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আরো বলেন, দৈনিক জনকণ্ঠ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মিথ্যা নিউজের জন্যে স্পষ্ট ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের দিক বিবেচনাসহ পত্রিকাটি বর্জনের ডাক দেব।