জানুয়ারি ১৭, ২০১৭

জুমার খুতবায় নজরদারী মুসলিম জনতা মেনে নেবে না: আল্লামা কাসেমী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীহেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর আহবায়ক আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী বলেছেন, জুমা মুসলিম জাতির জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এ দিনের গুরুত্বপূর্ন আমল হলো জুমার নামাজ ও তার পূর্বে সম্মানিত খতীব সাহেবদের মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে ইহজগতে আত্মশুদ্ধিমূলক কোরআন ও সুন্নার আলোকে বয়ান বা খোতবা। যা রাসূল স. সাহাবায়েকেরামদের উদ্দেশ্যে মসজিদে নববীতে করেছেন, তারই অনুকরণে মুসলিম জাতির পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শৃংখলা, পরস্পরে ভাতৃত্ব বন্ধন সুদৃঢ়করণ ও মানবিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপূর্ন আদর্শ সমাজ গঠনে কোরআন ও হাদীসের আলোকে সম্মানিত খতীব সাহেবগণ উদ্বোদ্ধ ও উৎসাহ প্রদান করে থাকেন। যার মাধ্যমে সমাজের নানাবিধ সমস্যার নিরসন হয়ে থাকে। অভদ্ররা ভদ্রতা এবং বেয়াদব ও সন্ত্রাসীরা আদব-আখলাক ও শৃংখলা শিখতে পায়। ইহাই বাস্তবতা। পক্ষান্তরে জুমার খোতবায় জঙ্গী আর সন্ত্রাসী তৈরী হয়, ইহা পাগলের প্রলাপ।

আজ বিকালে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর অস্থায়ী কার্যালয় বারিধারা মিলনায়তনে মহানগরীর এক জরুরী সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, কাকে খুশি করার জন্য একটি শান্তিময় সমাজে জুমার খোতবায় নজরদারীর নামে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চান, মুসলিম জনতা জানতে চায়। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, নজরদারীর নামে জুমার খোতবা নিয়ন্ত্রনের কোনো হটকারী পদক্ষেপ জনগণ মেনে নিবে না, নিতে পারে না।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন: মাও. আবুল কালাম, মাও. আতাউল্লাহ হাফিজ্জী, মাও. মোস্তফা আজাদ, মাও. জহীরুল হক ভূইয়া, মাও. হাকীম আব্দুল করীম, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মুফতী আব্দুস সাত্তার, শেখ গোলাম আসগর, মাও. আহমদ আলী কাসেমী, মাও. মঞ্জুরুল ইসলাম, মাও. বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মাও. ফজলুল করীম কাসেমী, মাও. মুজীবুর রহমান হামিদী, মুফতী আজহারুল ইসলাম, মাও. আব্দুল কুদ্দুস, মাও. শফীকুদ্দীন, মাও. নাজমুল হাসান, মুফতী মুনীর হোসাইন, মুফতী মাসউদুল করীম, মুফতী ফখরুল ইসলাম, মাও. মোহাম্মদ ফয়সাল ও মাও. শরীফুল্লাহ প্রমুখ।

তিনি আরো বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক আধ্যাত্যিক জাতীয় সংগঠন। যার শিকড় দেশের মাটির অনেক গভীরে প্রথিত। যার উদ্দেশ্য খোদাদ্রোহী ও দেশদ্রোহীদের কবল থেকে ধর্ম ও দেশকে রক্ষা করা। যার ভিত্তিমূলে আল্লাহর রাসূল স. এর ইজ্জত রক্ষার্তে শহীদদের পবিত্র তাজা খুন ঢালা হয়েছে। যার সম্মানিত আমীর আওলাদে রাসূল হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী র. এর হাতে গড়া শাগরিদ ও খলীফা, যোগশ্রেষ্ঠ ওলীয়ে কামেল, সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুযুর্গ শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং মহাসচিব প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, হাফিজে কুরআন, দেশের শ্রেষ্ঠ আলেম খানদানের সন্তান আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। যাঁদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশে নাস্তিক মুরতাদদের কবর রচনা হয়েছে। আজো তাঁদের নেতৃত্বে দেশ ও ইসলাম রক্ষায় লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তাঁদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি দেশ বিদেশের আলেম-উলামা ছাড়াও কোঠি কোঠি ঈমানদার মানুষের গভীর আস্থা ও আনুগত্বের আর কোনো নজীর নেই। হেফাজতের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের নিকট তাঁরা আস্থা ও জাতীর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। এর কোনো বিকল্প নেই।

আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, কিছু সংখ্যক দুষ্টচক্র নাস্তিক মুরতাদদের দালালদের পরস্পরে বিভাজন সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে কান না দিয়ে আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বকে দেশ ও জাতীর জন্য নেয়ামত ও রহমত মনে করে সর্বস্তরের নেতকর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ন উপায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দীন-দেশ ও মানবতার জন্য কাজ করে যাওয়ার উদাত্ত আহবান জানান।