হজ্জ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ

হজ্জ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ

সংকলনে: সোহেল আহম্মেদ


হজ্জ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন বা স্তম্ভ। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের মধ্যে সামর্থ্যবানদের ওপর হজ্জ ফরজ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরজ।”
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৭)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বাধিক উত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ইমান আনয়ন করা। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, হজে মাবরুর বা মকবুল হজ আদায় করা।
(বুখারি)

তাই শারীরিক ও আর্থিকভাবে যারা সামর্থ্যবান তাদের উচিৎ কাল বিলম্ব না করে যথাসম্ভব তারাতারি হজ্জ পালন করে নেওয়া। কেননা সামর্থ্য থাকার পরও যদি কেউ হজ্জ পালন না করে মারা যায়, তার ব্যাপারে হাদীসে পাকে বহুত বড় ধমকির কথা বর্ণিত হয়েছে।

এবার আসুন হাদীসের আলোকে জেনে নেই হজ্জের কয়েকটি বিশেষ ফজিলত-

১.যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর যিয়ারতের জন্যে এলো, তারপর কোনো অশ্লীল যৌন ক্রিয়া করলো না, আল্লাহর নাফরমানীর কোনো কাজ করলো না, তাহলে সে গোনাহ থেকে এমনভাবে পাকসাফ হয়ে প্রত্যাবর্তন করলো, যেমন পাকসাফ সে ঐদিন ছিল যেদিন সে তার মায়ের পেট থেকে জন্মগ্রহণ করেছিল। (বুখারী, মুসলিম)

২. হজ্জ ও ওমরাহকারী আল্লাহর মেহমান। সে তার মেযবান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন, সে তার কাছে মাগফেরাত চাইলে তিনি তাকে মাগফেরাত দান করেন। (ইবনে মাজাহ)

৩. হ্জ্জ ও ওমরাহ পর পর করতে থাক। কারণ হজ্জ ও ওমরাহ উভয়ই দারিদ্র ও অভাব এবং গোনাহগুলোকে এমনভাবে দূর করে দেয় যেমন আগুনের ভাট্টি লোহা ও সোনা-চাঁদির ময়লা দূর করে তা বিশুদ্ধ করে দেয়। হজ্জে মাবরুরের প্রতিদান তো একমাত্র জান্নাত। (তিরমিযি, নাসায়ী)

৪. যদি কোনো হেরেম শরীফ যিয়ারতকারীর সাথে তোমাদের সাক্ষাত হয়, তাহলে তার বাড়ী পৌঁছাবার আগেই তাকে সালাম কর, তার সাথে মুসাফাহা কর এবং তাকে অনুরোধ কর তোমাদের জন্যে আল্লাহর কাছে মাগফেরাতের দোয়া করার। এজন্যে যে, তার গোনাহের মাগফেরাতের ফায়সালা করা হয়ে গেছে।
(মুসনাদে আহমদ)

৫. হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতের ময়দানে নবী (স) এর একেবারে নিকটে সওয়ারীর উপরে ছিল এমন সময়ে হঠাৎ সে নীচে পড়ে প্রাণ ত্যাগ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাকে গোসল দিয়ে ইহরামের পোষাক সহই দাফন কর। এ ব্যাক্তি কিয়ামতের দিন তালবিয়া পড়া অবস্থায় ওঠবে। তার মাথা ও মুখমন্ডল খোলা থাকতে দাও। (বুখারী, মুসলিম)