দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা যে দায়ী নয় তা আজ প্রমাণীত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

2016-07-14_155446ইসলামী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোঁরায় লোমহর্ষক সন্ত্রাসী হামলায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণীত হয়েছে যে, দেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্র প্রমাণিত করা এবং সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও মাদ্রাসা শিক্ষা দায়ী নয়। এতোদিন ইসলামে সন্ত্রাসবাদ আবিষ্কার ও ইসলামপন্থীদের সন্ত্রাসী এবং মাদ্রাসাকে সন্ত্রাসী প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে সমাজে ইসলামপন্থীদের হেয় প্রতিপন্ন করার এবং তাঁদেরকে জনগণের শত্রুভাবাপন্ন করে তোলার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছিল। প্িরতদ্ব›দ্বী বিবেচনায় সন্ত্রাসী ও সা¤প্রদায়িক ইত্যাদি অভিযোগ এনে ইসলামপন্থীদের শেষ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল।

এই ইস্যুতে সরকার এবং ২০দলীয় জোট নিজ নিজ কর্মসূচী নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। আপনারা কোন জোটের সাথে আছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে জোট চেয়ারম্যান বলেন, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সব সময় ছিলো। আমরা এই ইস্যুতে সতন্ত্রভাবে কাজ করছি। সব ইসলামী দলের সাথে সমš^য় করে আমরা একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চাই।

মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও গোঁড়ামীর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এই ইস্যুতে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সন্ত্রাস নির্মূলে দেশ গঠনে পদক্ষেপ নিতে হবে। ইসলামের উদার নৈতিক মধ্যপন্থা অনুসরণ করতে হবে।

গুলশানের হলি আর্টিজন রেস্তোরা ও শোলাকিয়া ঈদগাহের পাশে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আজ সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর রুনি হলে ইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী। উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা আব্দুর রশিদ মজুমদার, মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, মাওলানা জসিম উদ্দিন, অধ্যাপক মাওলানা এহতেশাম সারওয়ার, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী তৈয়্যব হোসাইন, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল, মাওলানা জিয়াউল হক মজুমদার, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আনছারুল হক ইমরান, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ গাজী, মাওলানা আবুল খায়ের বিক্রমপুরী, সৈয়দ মুহাঃ এহসান, মুহাঃ ওবায়দুল হক, ছাত্রনেতা আব্দুর রহমান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা আগামীকাল ১৫ জুলাই শুক্রবার জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে জনমনে সন্ত্রাস বিরোধী চেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান এবং দেশের শান্তি ও সুস্থিতির জন্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্যে ঐক্যজোটের পক্ষ হতে দেশের সকল ইমাম ও খতিবদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।


সংবাদ সম্মেলনে পঠিত পূর্নাঙ্গ বক্তব্য


12188664008456_nগুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোঁরায় ও শোলাকিয়া ঈদগাহ’র কাছাকাছি সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং
”ইসলামে সন্ত্রাসের স্থান নেই” শীর্ষক
সংবাদ সম্মেলন
স্থানঃ সাগর-রুনী মিলনায়তন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, তারিখঃ ১৪ জুলাই,২০১৬ইং বৃহস্পতিবার, বেলা ১১টা

সাংবাদিক বন্ধুগণ!
আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ,
আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হওয়ার জন্যে ইসলামী ঐক্যজোটের প¶ হতে আপনাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আমরা এমন এক সময়ে ইসলামী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি, যখন গুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোঁরায় ও পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-এর দিন দেশের সর্ববৃহৎ শোলাকিয়া ঈদগাহ’র কাছাকাছি সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটণায় সমগ্র দেশবাসির সাথে আমরাও স্তম্বিত ও বিস্ময়ে হতবাক। এধরনের কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত হামলা পবিত্র ইসলামসহ সকল আদর্শ ও ন্যায় নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এর মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তী বিনষ্ট, বাংলাদেশকে সা¤প্রদায়িক, অকার্যকর ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার ও অশূভ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। জিম্মি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী এবং বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের ভ’মিকা খুবই আশাব্যঞ্জক বলে আমরা মনে করি।
সাংবাদিক বন্ধুগণ!
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোঁরায় লোমহর্ষক সন্ত্রাসী হামলায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণীত হয়েছে যে, দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও মাদ্রাসা শিক্ষা দায়ী নয়। এতোদিন ইসলামে সন্ত্রাসবাদ আবিষ্কার ও ইসলামপন্থীদের সন্ত্রাসী এবং মাদ্রাসাকে সন্ত্রাসী প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে সমাজে ইসলামপন্থীদের হেয় প্রতিপন্ন করার এবং তাঁদেরকে জনগণের শত্রুভাবাপন্ন করে তোলার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছিল। প্িরতদ্ব›দ্বী বিবেচনায় সন্ত্রাসী ও সা¤প্রদায়িক ইত্যাদি অভিযোগ এনে ইসলামপন্থীদের শেষ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল।
সাংবাদিক বন্ধুগণ!
আমরা আমাদের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে আবারো দ্ব্যর্থহীনকণ্ঠে বলতে চাই যে, ইসলামে সন্ত্রাসের স্থান নেই। ইসলাম মজলুম মানবতার রক্ষা কবচ, নির্যাতিতদের প্রতিবাদের তীব্র ভাষা, অসহায়ের নিরাপত্তা, বঞ্চিতদের অধিকার আদায়ের বর্ম এবং ইজ্জতের গ্যারান্টি ও শান্তির হাতিয়ার। ইসলাম সন্ত্রাস নয়, বরং সন্ত্রাস নির্মূলের জন্যেই ইসলামের আগমন ঘটেছে। সন্ত্রাসের হিংস্রাঘাতে বিশ্ব সভ্যতা যখন মূখ থুবরে পড়েছিল। মানবতা ও মানবাধিকার লঙ্গিত হচ্ছিল। মজলুম জনতার আর্তচিৎকার, উৎপীড়িতদের আহাজারি ও ক্রন্দনের রোল ধ্বনিত হচ্ছিল। এহেন নাজুক পরিস্থিতিতে আগমন ঘটলো দ্বীন-ইসলামের। আর ইসলামের কারণেই তখন সন্ত্রাসীর তলোয়ার কোষবদ্ধ ও দুর্ধষ খুনীরা পরিণত হলো ইনসানিয়াতের মুহাফিজে। তাছাড়া ইসলাম সা¤প্রদায়িক ধর্ম নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। তাছাড়া ইসলাম সার্বজনীন সাম্য, মৈত্রী, মানবিকতা ও কল্যাণের ধর্ম। ইসলাম সন্ত্রাস ও ফেৎনা-ফ্যাসাদের বিরুদ্ধে। ইসলামী আদর্শই সন্ত্রাস ও ফেৎনা-ফ্যসাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার জন্যে মুসলিম মননকে যুগ যুগ ধরে প্রেরণা যুগিয়ে আসছে। তাছাড়া কারো ব্যক্তিগত দোষের জন্যে কোন প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা ইসলাম সমর্থন করে না।

সাংবাদিক বন্ধুগণ!
আমরা মনে করি, জুমআ’র খুৎবায় নজরদারি ও কিছু কিছু মাদ্রাসা বন্ধের উদ্যোগ অযৌক্তিক। এ ধরনের পদক্ষেপ অনভিপ্রেত । এতে সাধারণভাবে খতিব ও মাদ্রাসার দিকেই সন্দেহের তীর নিক্ষেপের বীজ বপন করা হচ্ছে। এধরনের উদ্যোগ সকল ইসলামী দল, সংগঠন, ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে আহত করছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী

-২-

সাব্যস্ত হওয়ার আগেই খতিব ও মাদ্রাসাকে হুমকী মনে করা অনুচিৎ। ইসলামী মূল্যবোধের ধারক-বাহক মাদ্রাসা ও খতিবদের সম্পর্কে এহেন নেতিবাচক পদক্ষেপ কোন অবস্থাতেই কাম্য হতে পারে না ।

সাংবাদিক বন্ধুগণ!
স্বধীনতা উত্তর বাংলাদেশে অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেপ্তারের লক্ষে সৃষ্টি করা হয় চিতা, কুবরা, সোয়াত ও র‌্যাব প্রভৃতি বিশেষ বাহিনী। একাধিকবার সেনা অভিযান—ক্লিনহার্ট অপারেশন, ক্রস ফায়ারসহ বহু অভিযান পরিচালনা করা হয়। সর্বশেষ গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোঁরায় ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলায় পরিচালনা করা হয় ’অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। এসব অভিযানে ও সন্ত্রাসের সাথে মাদ্রাসা ও আলেম-উলামাদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ মিলেনি । অথচ এতোদিন দ্বীনি প্রতিষ্ঠন ও ইসলামের ধারক-বাহকদের প্রভাব থেকে জনগণকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে তাদেরতে সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী ইত্যাদি অভিধায় আখ্যায়িত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়ে আসছে। ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হীন কর্মকান্ড বলে আমাদের বিশ্বাস।

সাংবাদিক বন্ধুগণ!
আমরা মনে করি, যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষার অভাবেই শিক্ষার্থীরা বিপথগামী হচ্ছে। পর্ণগ্রাফী সংস্কৃতি অনুশীলনের প্রভাবে হিতাহিত জ্ঞান লুপ্ত হয়ে যুবকরা বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ছে । সমাজে বিষ ফোঁরার মতো ভিসিআর, নগ্ন ও অশ্লীল ছায়াছবি প্রদর্শন, পর্ণ ও রম্য পত্র-পত্রিকা, কুরুচিপূর্ণ চলচ্চিত্রের প্রসার, মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতায় কুপ্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলার ফলে যুবকরা সন্ত্রাসের মতো ভয়ানক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অপসংস্কৃতির দুষিত জোয়ার-প্রবাহে শুধু নিজস্ব সংস্কৃতিই ধ্বংস হচ্ছেনা, বরং ভেসে যাচ্ছে চিরায়ত সামাজিক মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, চরিত্র, ধর্ম ও আদর্শ; বিপন্ন হচ্ছে নৈতিক মানদন্ড। যুবকশ্রেণী পঙ্গুত্ব বরন করছে মন-মননে, নীতি-নৈতিকতায় ও চিন্তা-চেতনায়। বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে তরুণ-তরুণীদের বাঁচাতে নির্মল, পবিত্র, স্বচ্ছ, নির্দোষ এবং নিজস্ব আদর্শের আলোকে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন শিক্ষার সকল স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। কেননা ধর্মই হলো মানুষের বিশ্বাসের মৌলিক বিষয়। এর মাধ্যমেই মানবিক গুণাবলী অর্জিত হয়। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সার্বজনীন সাম্য, মৈত্রী, মানবিকতা সম্পন্ন মানসিকতা জোরদার এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সৌহার্দবোধের চেতনাকে জাগ্রত করা সহজ হয় । ধর্মীয় শিক্ষা পারস্পরিক সহমর্মিতার ক্ষেত্রে বিশ্বাস, চেতনা ও উপলব্ধি প্রতিবিম্বিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের চিত্ত, মানসলোক ও চেতনারাজ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়।

সাংবাদিক বন্ধুগণ!
আমরা পরিশেষে বলতে চাই যে, জাতির জীবনে বহু সংকট আসে। কিন্তু আমরা যদি সুকঠিন দৃঢ় চরিত্রবলের মাধ্যমে ঐক্যর অধিকারী হই, তাহলে সাময়িক সংকট মোকাবেলা করে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। এজন্যে প্রয়োজন দেশপ্রেমে উচ্ছলিত আত্মপ্রত্যয়সিদ্ধ চিত্তের তরঙ্গাভিঘাত সমৃদ্ধ সমাজ। দুর্জয় বিশ্বাস নিয়ে আপোসহীন সংগ্রামে নেমে পড়ে জনমনে সৃষ্টি করতে হবে সন্ত্রাস বিরোধী কর্মোন্মাদনা। আমরা মনে করি অনৈক্য, দ্বিধা-দ্বন্দ ও সংশয় পরিহার করে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস, অদম্য উৎসাহ, দুর্জয় সাহস এবং প্রজ্ঞার সাহায্যে জাতিকে একটি সংঘবদ্ধ শক্তিতে রুপান্তর করার প্রয়াস চালাতে হবে। সন্ত্রাস মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে শাণিত ও উদ্দিপ্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সন্ত্রাস বিরোধী উদ্বুদ্ধকরন কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। শত উস্কানির মূখেও দূরদর্শিতার মাধ্যমে দেশ বিরোধী শক্তির সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে হবে। বিপদে-আপদে ও শত ঝড়ঝঞ্ঝার মূখেও দেশ রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন কর্মে আঁকড়ে থাকতে হবে। আবেগ-উচ্ছাস পরিহার করে আদর্শ ও বুদ্ধিবৃত্তিক কলাকৌশল অবলম্বন করার মাধ্যমে দুর্জয় বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে দুর্বার গতিতে; কোন বাধা, কোন প্রতিবন্ধক দেখে ভীত হওয়া যাবে না। জনমনে জাতীয় ঐক্যের নেশা এমনভাবে জাগিয়ে তুলতে হবে, যাতে সন্ত্রাসীদের সকল চক্রান্ত ও সকল বাধা ব্যর্থ করে দিয়ে জনতার কাফেলা পৌঁছে যেতে পারে মঞ্জিলে মকসুদে। আমরা দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় অটল থাকতে দেশবাসিকে জানাই উদাত্ত আহবান।

সাংবাদিক বন্ধুগণ!
আমরা আগামীকাল ১৫ জুলাই শুক্রবার জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে জনমনে সন্ত্রাস বিরোধী চেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান এবং দেশের শান্তি ও সুস্থিতির জন্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্যে ঐক্যজোটের পক্ষ হতে দেশের সকল ইমাম ও খতিবদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

সাংবাদিক বন্ধুগণ!
ধৈর্য ধরে আমাদের বক্তব্য শোনার জন্যে আপনাদের জানাই ধন্যবাদ।