সেদিন আমার হাস্যোজ্জ্বল মুখ ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী : নৌমন্ত্রী (ভিডিও)

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি



বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় করেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় হাসি মুখে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।

তিনি বলেছেন, সেদিন ওই ঘটনার পরে আমার হাসিমুখের অভিব্যক্তির জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আপনারা যারা আমার এই আচরণে দুঃখ পেয়েছেন তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই। আপনারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আজ ৩১ জুলাই মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে বিসিআইসি মিলনায়তনে শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সচিবালয়ে ফিরে নিজ দফতরে  সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সেদিনের আমার হাস্যোজ্জ্বল মুখ ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। আমার মুখ সব সময়ই হাস্যোজ্জ্বল থাকে। সেদিন ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকরা আমার কাছে যখন জানতে চায়, আমি তখনও সে বিষয়ে কিছুই জানি না। তাই স্বাভাবিকভাবেই বলেছি, যে অপরাধী হবে তাকে শাস্তি পেতে হবে এবং আজ যে বিষয় নিয়ে আমরা এখানে বসেছি সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। এসব কথা বলার সময় আমার মুখটি ছিল হাস্যোজ্জ্বল, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। যা দেখে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। আপনারা বিষয়টি নিশ্চয়ই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সেদিনের সেই আচরণ ছিল একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, এতে আমি মর্মাহত, ব্যথিত এবং শোকাহত। আর যেন কোনও মায়ের বুক খালি না হয় আমরা সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি। ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। চালকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। আমি কথা দিচ্ছি, অভিযুক্ত চালকদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে আমাদের সংগঠন থেকে তার বিরুদ্ধে কোনও অবস্থান নেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন আরও ১১ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী। রবিবার এই দুর্ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নৌমন্ত্রীর হাসির ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পদত্যাগও চাইছেন শাজাহান খানের।