ফেসবুকে নিজের ছবি আপলোড নিয়ে যা বললেন নাজনীন আক্তার হ্যাপি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক


নাজনীন আক্তার হ্যাপি  (আমাতুল্লাহ)


ফেসবুকে নিজের ছবি দেয়ার পক্ষে আমি নই। পর্দা করেও না। আমি কেন দেই বা দিয়েছি? এটার উত্তর দেয়া আমি জরুরী মনে করছি তাদের জন্য, যারা হয়তো আমার দেখাদেখি নিজেদের পর্দা করা ছবি ফেসবুকে দিতে চাইবেন।

প্রথমত আমার লাইফটা অনেকের থেকেই একটু আলাদা। আমি একটা সময় সিনেমা/মিডিয়ার জগতে বিচরণ করেছি (আল্লাহ মাফ করুন)। তো, ২ টি মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমায় প্রধান নায়িকা হিসাবে অভিনয়, এবং বেশকিছু বড় বড় কোম্পানির বিজ্ঞাপনচিত্রসহ বেশকিছু কাজ আমি করেছিলাম। ক্যারিয়ারও খুব বেশি বড় ছিল না, ২ বছরের মত হবে (যদিও কোনো একটা কারণে আবার ১ বছরের মত কাজ থেকে দূরে থেকেছিলাম)। অতএব পুরোপুরি ঐ জগতের অবস্থান ১ বছর বললেও চলে। তখনও মানুষ আমাকে চিনতো যদিও পরবর্তীতে কিছু ব্যক্তিগত কারণে আলোচনা ও সমালোচনায় জড়ানোর পর মানুষের কাছে বেশি পরিচিত হয়েছিলাম (আল্লাহ মাফ করুন)। যেহেতু, কমবেশি সবাই আমাকে চেনেন, সেহেতু সবার চোখে আমার পূর্বের একটা চিত্র সবার মাথায় মোটামুটি সেট করা। আমি মানেই আমার আগের চেহারা এবং নায়িকা থাকা অবস্থার সময়ের বেপর্দা একজন মেয়ে।

আমার ফেসবুক আইডি থেকে সব বেপর্দা ছবি ডিলিট এবং ঘরে থাকা ছবি নষ্ট করেছি তো বহু আগেই আলহামদুলিল্লাহ! আর সোশ্যাল মিডিয়াতে যেসব ছবি এখনো আছে আমি আমার মত করে কিছু কিছু চেষ্টা করেছি সেসব সরাতে। কিছু পেরেছি কিছু পারিনি। আল্লাহ তো সব জানেন।

ধরুন আপনার ভাই আগে দাড়িছাড়া থাকতো, এখন সুন্নতি তরিকায় দাড়ি রাখে। আপনি যখন তার কথা ভাববেন কোন ছবিটা আপনার মনে আসবে? দাড়িছাড়া? কখনোই না। বর্তমান অবস্থার চিত্রটাই আমার মাথায় আসবে। কারণ বর্তমানের অবস্থা আপনার ব্রেনে অটোমেটিক সেট হয়ে যাবে। আর কষ্ট করে আগের দাড়িছাড়া চেহারা মনে করতে চাইলে ভিন্ন কথা। আমার বিষয়টাও তেমন। আমি পর্দাসহকারে ছবি দেই বা দিয়েছি আমার বর্তমান অবস্থার চিত্রটা আপনি বা আপনার মাথায় দেয়ার জন্য।

আমি নিশ্চয়ই চাইবো না আমার পূর্বের অবস্থার চিত্রটাই সবার কল্পনাতে থাকুক! কারণ সেটা আমার অতীত, শুধুমাত্রই জীবনের একটা সময়, যা চলে গেছে। যা আর ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা কোনদিনের জন্যও নেই ইনশাআল্লাহ! এবং মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে নিউজ হলে বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ আরও কিছু পত্রিকা/অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো আমার ফেসবুকে আপলোডকৃত পর্দা করা ছবি ইউজ করেন। এটা কি কম লাভ? হোক তুলনামূলক কম। তবুও! আমি এই পর্দা করা ছবি না দিলে তো তারা পূর্বের বেপর্দা ছবিই ব্যবহার করতো! এবং বিভিন্ন জায়গায় আমি দেখেছি আমার বেপর্দা ছবির বদলে পর্দা করা ছবি ইউজ করতে আলহামদুলিল্লাহ! আমি আমার জায়গা থেকে এতটুকু হেফাজত যেন হয় সেটুকু নিশ্চয় চাইতে পারি!

আরেকটা বিষয় হলো, আমার যেমন পর্দার বুঝ ছিল না, তেমন এখনো যেসব বোনদের পর্দার বুঝ এসে পারেনি সেসব বোনদের পর্দার মেসেজটা পৌছে দেয়া! পর্দা করতে গেলে বাহ্যিক লেবাসটা কেমন হওয়া উচিত সেরকম একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করি, যদি আল্লাহ কবুল করেন! কারণ আমরা অনেকেই মনে করি, মাথায় শুধু হিজাব/বোরখা পরেও মুখ খোলা থাকলেও পর্দা হয়ে যায়, বা অনেকে বোরখাটাকে ফ্যাশন করেও নেন। না বুঝেই এমন করেন। আল্লাহ সহীহ বুঝ দিন।

আমার অবস্থার সাথে মিল নেই বা যেসব বোনেরা ছোট থেকে দ্বীনী পরিবেশে বড় হওয়ার সৌভাগ্য পেয়েছেন তাদের তো এসবের কোনো দরকারই নেই ইনশাআল্লাহ! আর হ্যা, অবশ্যই তাকওয়ার দাবী এসব থেকে এড়িয়ে চলা। এবং এসব থেকে বেঁচে থাকা নিঃসন্দেহে উত্তম।আমি একটা মানুষ, মানুষ মাত্রই গুনাহগার, এবং ভুলের উর্ধে নয় (আল্লাহ হেফাজত করুন)। আমার দ্বারাও বিভিন্ন ভুল হতে পারে, আমি খুব করে বলতে চাই, আমার খারাপ যেকোনোকিছু আবর্জনার মত করে ছুড়ে ফেলে দিন এবং যদি কিছু ভাল পান তবে সেটা গ্রহণ করতে পারেন ইনশাআল্লাহ! যদিও আমি মনে করি আমার থেকে গ্রহণ করার মতন তেমন কিছুই নেই।

আমি যা কিছু বললাম এসবকিছুই আমার ব্যক্তিগত মতামত। ভুল কিছু মনে হলে আমার সংশোধনের জন্য ও আল্লাহ যেন হেদায়েতে পরিপূর্ণতা দান করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত হেদায়েতের উপর রাখেন সেই দোয়া চাই।আল্লাহর কাছাকাছি হতে চাই, যেতে চাই। আমাতুল্লাহর বসয় মাত্র ৩/৪ বছর। দ্বীনের পথে শিশু আমি। আল্লাহর রহমতের ভিখারী। আল্লাহ সবাইকে মাফ করে দিন, পরিপূর্ণ ইসলাম মেনে চলার তৌফিক দিন।

ফেসবুকে নিজের ছবি দেয়ার পক্ষে আমি নই। পর্দা করেও না। আমি কেন দেই বা দিয়েছি? এটার উত্তর দেয়া আমি জরুরী মনে করছি তাদের…

Posted by Najnin Akter Happy on Tuesday, July 31, 2018