যশোর থেকে চরমোনাইতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী

ধর্ষণপ্রথমে মোবাইলফোনে প্রেম, তারপর প্রেমের টানে যশোর থেকে বরিশালের চরমোনাইতে প্রেমিকের কাছে এসে এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে ওই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়নি। অভিযুক্ত ধর্ষকও ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

স্থানীয়রা জানায়, চরমোনাইর রাজারচর গ্রামের মো. গেদুর বাসার গৃহশিক্ষক ইমরান। সে চরমোনাই সাহেবেরহাট ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। তার সঙ্গে মোবাইলফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা নবম শ্রেণির ছাত্রী মনিরার।

ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে যশোর থেকে সোমবার রাতে মনিরা চরমোনাই রাজারচর গ্রামে আসে। এ সময় ইমরান তাকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে স্থানীয় রিজিয়া বেগমের ঘরে নিয়ে যায়। রিজিয়া বেগম জানান, সোমবার রাত ১২টার দিকে ইমরান ও তার এক বন্ধু মেয়েটিকে নিয়ে তার ঘরে আসে। আত্মীয় পরিচয়ে রাতে থাকার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করলে তাকে তিনি আশ্রয় দেন। পরে স্থানীয় রুবেল গাজী, জুলহাস ও রাসেল ঘরে প্রবেশ করে। তারা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য অন্য কক্ষে নিয়ে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল, নগদ এক হাজার ৬০০ টাকা ও গহনা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাকে গণধর্ষণ করে বলে মেয়েটি তাকে জানিয়েছে।

রিজিয়া বেগম জানান, ‘রুবেল গাজী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আমি কাউকে কিছু বলিনি।’

স্থানীয়রা জানায়, ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টি ওই ছাত্রী গ্রামের অর্ধশতাধিক লোকের সামনে জানায়। পরে ইউপি সদস্য মামুন গাজী বিষয়টি কোতয়ালী মডেল থানায় অবহিত করেন। থানার এএসআই শরিফুল মঙ্গলবার বিকালে ছাত্র ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

অভিযুক্ত রুবেল গাজী ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে জানায়, ‘মেয়েটির মোবাইল, টাকা ও গহনা থানা পুলিশের কাছে দিয়ে দিয়েছি।’

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, গণধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয়। মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যশোরের সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে সেখানকার থানায় তাকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।