পুলিশের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের জমি দখলের অভিযোগ

pic p_116323এবার যশোরে সংখ্যালঘুদের শত বছরের লিজের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করা হয়েছে।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুলিশ রাতারাতি অবৈধভাবে তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়ি জোর করে দখল করে নিয়েছে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মালামাল বের করে সেখানকার দরজা ইট দিয়ে গেঁথে দেয়।

পুলিশের এই অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এমনকী সেখাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বী কয়েক ব্যবসায়ীকে গালিগালাজ করা হয়েছে বলে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক দাবি করেন।

বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, ‘আমার পরিবার মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আজ মালাউন বলে গাল দেয়া হচ্ছে। তাহলে কি আমরা সংখ্যালঘুরা পুলিশের কারণে এদেশে থাকতে পারবো না।’

প্রসঙ্গত, বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক রাইটস যশোর নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শহরের প্রাণকেন্দ্র গাড়িখানা রোডে যশোর মৌজা জেএল নং- ৮০, সিএস খতিয়ান নং-৫১, এসএ খতিয়ান নং-১৭, সাবেক দাগ নং-১১৯ ও হাল দাগ নং-৯৫ এ মোট জমির পরিমাণ ১ দশমিক ২০ একরর। এই জমি কালেক্টরেট মহোদয় ব্রিটিশ আমল থেকে তত্ত্বাবধান করে আসছে। একইসঙ্গে এই জমি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত নিয়ে কাঁচাপাকা ঘর ও দোকানঘর নির্মাণ করে ভারত বিভাগের আগ থেকেই বংশপরম্পরায় ভোগদখল করে আসছেন।

সরকারি এই খাসজমি ১৯৩১ সালে ভারত সম্রারাটের কাছ থেকে বিজয় কৃষ্ণ মিত্র নামে এক জমিদার ৩০ বছরের জন্যে লিজ নেন। সেইসময় তাকে কর দিয়ে বর্তমান ভোগদখলকারীদের পূর্বপুরুষরা বসবাস করতেন। ১৯৫৫ সালে তদানিন্তন পাকিস্তান পার্লামেন্ট সদস্য আহম্মদ আলী সরদার কবুলিয়াত দলিলের মাধ্যমে ৩০ বছরের বন্দোবস্ত নেন। ওই বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে সেইসময় যশোর তৃতীয় মুন্সেফ আদালতে ৪১৪/৬২ নং দেওয়ানী মামলা ৪২০/৬২, ৪৪০/৬২ ও যশোরের সাব জজ আদালতে ৬২/৬৩, ৬৩/৬৩ ও ৬৪/৬৩ নং আপিল কেস করা হয়। বর্তমানে সেই মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বৈধ বরাদ্দপ্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের মাধ্যমে পুলিশ তার সাংবিধানিক দায়িত্ব অস্বীকার করেছে। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ১৫টি বসতঘর অবমুক্তির দাবি করেন। অন্যথায় তারা কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, আসাদুজ্জামান শিবলু, শেখ ফজলুর রহমান, সালমা বেগম, হালিমা ইসলাম, পলি আকতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসপি (সদর) শাফিন মাহমুদ পুলিশের পক্ষে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন।