মার্চ ২৩, ২০১৭

তদন্ত শেষ হলে তাজ্জব হয়ে যাবেন: শেখ হাসিনা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শেখ হাসিনাজঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেখবেন ভবিষ্যতে এমন এমন জিনিস বের হবে, আপনারা নিজেরাই তাজ্জব হয়ে যাবেন। ভাববেন কী ভাবে এ কাজগুলো এরা করেছে। রোববার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তদন্ত সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১তম ‘এশিয়া- ইউরোপ মিটিং’ (আসেম) সম্মেলন উপলক্ষে ১৪ থেকে ১৬ জুলাই মঙ্গোলিয়া সফর করেন। এই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেই মূলত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আসেম সম্মেলনেও বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রধানমন্ত্রী। এবং সেখানে সন্ত্রাস প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বিশ্ব নেতারা।

গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সশস্ত্র জঙ্গিরা হামলা চালায়। হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রথম পদক্ষেপেই নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা এবং আহত হন অর্ধশতাধিক।

জঙ্গিরা রেস্তোরাঁয় থাকা ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে হত্যা করে। এদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানের, দুজন বাংলাদেশি এবং একজন মার্কিন নাগরিক। পরের দিন কমান্ডো অভিযানের সময় ছয় হামলাকারী নিহত হয়। এ ঘটনার দায় মধ্যপ্রাচ্যের তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) স্বীকার করেছে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্ট।

এ ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় ঈদের দিন দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহ মাঠের অদূরে পুলিশের ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য ও এক নারী নিহত হন। এ সময় এক জঙ্গিও নিহত হয়।

আজকের সংবাদ সম্মেলনেও এসব জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার বিষয় তুলে আনেন সাংবাদিকরা। এ সময় কলকাতাভিত্তিক একটি সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক গুলশান হামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশানের ঘটনাটি একটু ভিন্ন মাত্রায় হয়েছে, সেখানে অনেক বিদেশি নাগরিক মারা গেছেন। এটি আমাদের মর্যাদাকে বিশ্বে প্রশ্নবোধক চিহ্নে ফেলে দিল। তবে, এটা শুধু বাংলাদেশে না, আজকে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জাপান, ভারত এমনকি আমেরিকাতে প্রতিনিয়িতই হচ্ছে। আমেরিকায় একজন মানুষ ৫০ জনকে গুলি করে ফেলে দিল। স্কুলে হামলা হচ্ছে। পরিবারে হচ্ছে। সারা দুনিয়ায় এগুলো হচ্ছে।

বাংলাদেশে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার নানা ধাপে কাজ করছে। জনসচেতনতা সৃষ্টি করাসহ ধর্মীয় নেতা, শিক্ষকরাও নিজ নিজ জায়গা থেকে এর বিরুদ্ধে কাজ করছে। পারিবারিকভাবে যাতে সন্তানদের প্রতি আরো যত্ন নেওয়া হয় সেগুলোর ওপরও সরকারের পক্ষ থেকে চালানো প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে এটুকু বলব, তদন্তের সব কথা তো বলা যাবে না। বলে দিলে তদন্তই তো শেষ হয়ে যাবে। কাজেই এখানে যতটুকু বলা প্রয়োজন ততটুকু বলা হচ্ছে। সব বলে দিলে তো তদন্ত থাকে না।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তদন্তের অনেকগুলো ধাপ আছে, সেগুলো করা হচ্ছে এবং খুঁজে খুঁজে বের করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো এমন এমন জিনিস বের হবে, যখন আমরা এটা সফলভাবে করতে পারব, আপনারা নিজেরাই তাজ্জব হয়ে যাবেন যে, কাজগুলো এরা কীভাবে করেছে। কাজেই গোয়েন্দা সূত্রসহ অন্যান্য জায়গা থেকে যেসব তথ্য আমরা পাচ্ছি, যেখানে ঠিক যতটুকু প্রকাশ করা যায়, ততটুকুই প্রকাশ করা হচ্ছে।’

এ নিয়ে তদন্তের স্বার্থে সাংবাদিকদের বেশি খোঁচাখুচি না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সূত্র যদি বেরিয়ে যায়, তাহলে তো আমরা একটি সূত্র হারিয়ে ফেললাম। নিশ্চয় আপনারা সেটি চাইবেন না।’

সারা দুনিয়ায় যারা আজকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত সবাই এর থেকে বেরিয়ে আসতে চায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘এর বাইরে শুধু যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের চেতনাই অন্ধকারে মিশে আছে। সেটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য।’

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়ে গেছে। দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জঙ্গি প্রতিরোধে গণকমিটি গঠন করা হচ্ছে। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারছে, আগুন-বোমা সন্ত্রাস করছে, যুদ্ধাপরাধী- তারা কী বলছে তাদের কথা আলাদা। কিন্তু দেশের যেসব মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে সত্যিকার অর্থেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠবে তাদের ঐক্য গড়ে উঠেছে। যারা ‘সর্প হইয়া দংশন করে আর ওঝা হয়ে ঝাড়ে’ তাদের কথা আলাদা।”