জানুয়ারি ২০, ২০১৭

তুরস্কের অভ্যুন্থানে ট্যাংক থামিয়ে দেয়া মেতিন দোগান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

4618_1গত শুক্রবার তুরস্কে ব্যর্থ হওয়া সামরিক ক্যু’টি ছিল নানা ধরনের নাটকীয় ও উত্তেজনায় ভরপুর। আকস্মিক সৈন্যদের রাজপথে নেমে আসা, তারপর ১৫ মিনিটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গার দখল নিয়ে নেয়া। ক্যু মোটামুটি সফল এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে একটি টিভিতে হাজির হওয়া এবং তারপর থেকে জনতার ঢল রাস্তায় নেমে পড়ে ঘটনাপ্রবাহ উল্টে দেয়া- সবই ছিল চরম উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জন্ম নিতে থাকে বহু উত্তেজনাকর মুহুর্ত আর দৃশ্যের। তেমনি একটি দৃশ্য ছিল চলন্ত ট্যাংকের সামনে উদাম গায়ের এক ব্যক্তির শুয়ে পড়া। চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারের সেই তিন যুগ আগের ঐতিহাসিক প্রতিবাদী মুহুর্তের কথা স্বরণ করিয়ে দেয়া সাহসী ছবিটি সাথে সাথে ক্যু’র বিরুদ্ধে তুর্কি জনগনের অসীম সাহসী প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। উৎসাহ যোগায় গণতন্ত্রের পক্ষে মানুষকে দাঁড়ানোর।

সেই অসীম সাহসী এবং গণমন্ত্রকামী ব্যক্তিটির নাম হচ্ছে মেতিন দোগান। তার বয়স ৪০। দোগান তার প্রিয় নেতা প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আহবান অনলাইনে দেখেই পরিচিত একজনের মোটারসাইকেলে করে ছুটে যান পাশের আতাতুর্ক এয়ারপোর্টে। ওখানের নিয়ন্ত্রণ সেনারা নিয়ে বিমান উঠা-নামা বন্ধ করে দিয়েছে।

এয়ারপোর্টের গেটেই গিয়ে দেখতে পান ট্যাংকের সারি, সশস্ত্র সেনাদের দীর্ঘ লাইন। তিনি এসবের পরোয়া না করে সোজা চলমান একটি ট্যাংকের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। চিৎকার করতে থাকেন, ‍”আমিই হচ্ছি তুরস্কের আসল সৈনিক। তোমরা কাদের সৈনিক?”

তার ছুটে যাওয়া দেখে ট্যাংকটি একটু থামে। আশপাশে সৈন্যে গিজগিজ করছে। এদিকে দোগান তার প্রতিবাদী ভাষায় চিৎকার করেই যাচ্ছেন। এমতবাস্থায় থেমে যাওয়া ট্যাংকটি আবার সামনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। কিন্তু দোগান চান সামনে কোনো ট্যাংক-সাজোয়া যান অগ্রসর হবে না। তাদেরকে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে। কোনো কিছু না ভেবেই সোজা চলমান ট্যাংকের সামনে শুয়ে পড়েন তিনি! সাথে সাথেই থেমে যায় ট্যাংকটি।

দোগানের সাহসী প্রতিবাদের রেশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে উপস্থিত অন্য প্রতিবাদীদের মধ্যেও। মারমুখী হয়ে ওঠে হাজারে জনতা। অবস্থা বেগতিক দেখে পিছু হঠতে বাধ্য হয় সেনারা। তার অল্পকিছুক্ষনের মধ্যে সেই আতাতুর্ক এয়ারপোর্টেই এসে ল্যান্ড করেন এরদোগান।

মেতিন দোগানকে এখন তুরস্কে ট্যাংকম্যান বলে সবাই ডাকছেন। তার সাহসী প্রতিবাদকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন লাখো মানুষ।

সূত্র: আনাদলু