হজের ওসিলায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর দুই ফিলিস্তিনি ভাইবোনের সাক্ষাৎ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | বেলায়েত হুসাইন


হজ্জের ওসিলায় ১৫ বছর পরে ফিলিস্তিনি ভাইবোনের সাক্ষাৎ, ইসরাইলি আগ্রাসন এই দীর্ঘকাল তাদেরকে পৃথক রেখেছিলো

হজ্জ ইসলামের এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান যে, হজ্জে মাবরুর এবং মাকবুল হজ্জ তথা আল্লাহরর কাছে বান্দার হজ্জ গ্রহণযোগ্য হলে তার সারা জীবনের গোনাহ মাফ করে দেওয়ার ওয়াদা করা হয়েছে।

তাছাড়াও অনেক সময় দেখা যায়, হজ্জে বান্দা বিভিন্নরকম পার্থিব পুরস্কারও লাভ করে থাকে, যা সে কল্পনাও করেনি।
ঠিক এমনই একটি ঘটনার জন্ম দিলো ফিলিস্তিনি দুই ভাইবোন। সামীর ও বুশরা নামের এই দুজন বাস করতেন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের এক এলাকায়,কিন্তু আজ থেকে পনেরো বছর আগে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ির একমাত্র পুরুষ সামীর ফিলিস্তিন ত্যাগ করতে বাধ্য হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান আর বাড়ির মহিলাগণ নিরুপায় হয়ে রয়ে যেতে হয় ফিলিস্তিনেই।
পরবর্তীতে তার বোন বুশরা ছাড়া আর সবাই দখলদার ইসরাইল কর্তৃক শাহাদাৎ লাভ করেন।
কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘ এই পনেরো বছর পরিবারের সাথে সাক্ষাতের কোন মওকা পাননি সামীর। সে ভেবেছিলো ফিলিস্তিনে তার আপনজনের কেউ আর বেঁচে নেই। আর তার বোন বুশরাও গৃহত্যাগী ভাইয়ের আশা আগেই ছেড়ে দিয়েছিলো।

কিন্তু আল্লাহর আজব কুদরৎ বোঝা বান্দার পক্ষে সম্ভব নয়। সৌদির খাদিমুল হারামাইনিশ শরীফাইন ফিলিস্তিনে ইসরাইল কর্তৃক শাহাদাৎ লাভকারী মুজাহিদিনদের স্মরণে এবার হজ্জের আগে একটি কনফারেন্সের আয়োজন করেন আর কাকতালীয়ভাবে ফিলিস্তিন থেকে বুশরা এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়া ভাই সামীর-উভয়েই এই কনফারেন্সে রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে আমন্ত্রিত হন এবং পবিত্র হজ্জব্রত পালনের সুযোগ লাভ করেন।

কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হচ্ছিলো মিনাতে। এখানে সম্মানিত মেহমানদের প্রচণ্ড ভীড় ছিলো, এই ভীড়ের মাঝেই বুশরা স্বীয় ভাই সামীরকে আবিষ্কার করলেন। তিনি মেহমানদের মাঝে বসে রয়েছেন,কিন্তু অসংখ্য মানুষের জটলা এতোটাই দূর্ভেদ্য ছিলো যে বুশরা সামীরে কাছে পৌঁছাতে পারছিলো না।
এদিকে ভাইকে দেখার পরে এতোদিনের জমা আবেগ, ভালোবাসা, দুঃখ ও আনন্দে বুশরা এতোটাই আত্মহারা হয়ে উঠেছে, বিরহ ও প্রাপ্তির যে কষ্ট এবং আনন্দ সেগুলো বুশরার অশ্রু বেয়ে পানি হয়ে ঝরতে লাগলো।

যেই মুহূর্তে বুশরা সামীরকে দেখলেন, তখন নিজেকে নিজের কাছে বুশরার এতোটাই সৌভাগ্যবতী মনে হচ্ছিলো, তিনি বলেন, আমি ভাইকে দেখে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলাম,আমার জীবনে এরচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত এর আগে কখনো আসেনি।
আলহামদুলিল্লাহ্‌! আল্লাহর অশেষ কৃতজ্ঞতা তিনি আমার ভাইয়ের সাক্ষাৎ দান করেছেন, আমরা আবার একটি ঈদুল আযহা একসাথে উদযাপন করতে পারবো,আমার কাছে এটা যেন এক নতুন জীবন।

বোনের সাথে সামীরের অনেকদিন বাদে দেখা হবার পরে তিনি বলছিলেন, আমি আমার এই সৌভাগ্যের কথা কখনো ভুলতে পারবোনা, এটা একটা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, আমাদের দুই ভাইবোনের মাঝে দীর্ঘ পনেরো বছরের যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিলো-এটা ইহুদীবাদী ইসরাইলের আগ্রাসনের জন্য, তবে আমি মহামান্য খাদিমুল হারামাইনকে শুকরিয়া জানাই যে তিনি আমাদেরকে হজব্রত পালনের জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন এবং মহান প্রভুর অপার মহিমায় আমরা দুই ভাইবোন আবার একসাথে হতে পেরেছি।


উৎস, হজ মিডিয়া ডটকম