উলূমুল হাদীসের পাঠ – পর্ব ৫

মুফতী হারুন ইজহার | লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্র চিন্তক



পাঁচ শর্তের খাম্বার উপর যেভাবে দাঁড়িয়ে আছে পুরো উলূমুল হাদীসের শাস্ত্র


[ইলমু মুস্তলাহিলহাদীস, ইলমুল জারহি ওয়াত্ তা’দীল, ইলমু ইলালিল হাদীস, ইলমু আসমাইর রিজাল]

আপনারা ৫ টি শর্তের প্রাথমিক পরিচয় পেয়েছেন। এখন আমরা উসূলে হাদিস শাস্ত্রের ঐ ৫ টি শর্তের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এবং তার মধ্য থেকে কিভাবে হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতির বিষয়াদি বেরিয়ে আসছে তা তুলে ধরব।

আমরা বারংবার সেই প্রসিদ্ধ শর্তগুলোর উপর জোর দিচ্ছি, কেননা শুধু হাদিসের ‘ইসতিলাহাত’ বা টার্ম সমূহ নয়, পুরো উলূমুল হাদিসের শাস্ত্রীয় মূলনীতি সমূহ দাঁড়িয়ে আছে ঐ ৫ শর্তের উপর।(আসলে প্রথম তিনিটি যথা ইত্তিসাল,আদালত,যব্ত হলো প্রধাণ ও মৌলিক)

উলূমুল হাদীস কি কি?

সে গুলো মোটামুটি আপনি বলতে পারেন :

ক.علم مصطلحات الحديث
পরিভাষা’র জ্ঞান, যার মধ্য দিয়ে হাদীসের সুদ্ধ-করণ আর দুর্বল-করণ প্রক্রিয়াটির ব্যাপারে একটা প্রাথমিক তথ্য অর্জন হয়। এটা একটু বিশ্লেষণধর্মী পাঠ হলে সেটা তখন বলা যেতে পারে أصول التصحيح والتضعيف
আমাদের পূর্বেকার আলোচনায় এ অধ্যায়ের উপর প্রাথমিক আলোকপাত হয়েছে।

খ. الجرح والتعديل :
রাওয়ী বা বর্ণনাকারীদের ভালমন্দ গুণাবলীর উপর সর্বাত্মক পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা তৈরী করার এক বিশেষ গবেষণার নাম আল্ জারহু ওয়া আত্ তা’দীল।
এখানে সরাসরি বর্ণনাকারীর ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে এমন ভাবে বিশ্লেষণ করা হয় যেখানে কোন সামান্য ত্রুটিও বাদ পড়েনা।
বলাবাহুল্য, এই যে হাদীসের নানা ক্যাটাগরি নির্ণয়ে যে এক বিশাল শাস্ত্র গড়ে উঠেছে তার মুখ্য চরিত্র হলো ব্যাক্তির আলাপ, অর্থাৎ বর্ণনাকারীর অবস্থার উপরই নির্ভর করে হাদীসের নানা গুনগত রূপান্তর। এজন্য এঅধ্যায়টি একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ধর্তব্য।

গ.علم علل الحديث
এটি হাদীসের সবচে’ সূক্ষ্মতম একটি শাস্ত্র। বিদগ্ধ মুহাদ্দিসের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে ধরাপড়া হাদীসের এমন কোন অদৃশ্যমান জটিল কারণ যার দ্বার হাদীসটির উপর ‘দুর্বলতা’ আরোপ করা হয়। যদিও দৃশ্যত সহীহ’র কন্ডিশন গুলো ওখানে বিদ্যমান বলেই মনে হয়। এখানে বর্ণনাকারী রাওয়ীর ব্যাক্তি-আলাপটা আল জারহু ওয়াত তা’দীলের মত সুস্পষ্ট না বরং খুবই জটিল,অস্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ। তাই অন্যান্য অধ্যায়ের মত এটা সকল মুহাদ্দিসের কাজ ছিলনা কোন সময়।

ঘ.علم اسماء الرجال
হাদীসের রেজাল শাস্ত্র নামে পরিচিত এ বিষয়টিতে বর্ণনাকারীদের সার্বিক পরিচিতি বিশদভাবে আলোচিত হয়। এটা অনেক বড় পরিসরের একটা শাস্ত্র যার আয়ত্ত কঠিন এবং সাধারণত তা দরকারও নেই। তবে অবশ্যই তালেবুল ইলমকে নির্দিষ্ট ও সীমিত পরিসরে তার জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কীভাবে? সেটা সময়মত আমরা আলোচনা করব।

উক্ত শাস্ত্রগত বিষয়গুলোর মধ্যে ‘মুসতলাহাত’ সম্পর্কে আপনি জেনেছেন মোটামোটি।
‘আল জারহু ওয়াত্ তা’দীল’ বলতে গেলে প্রথম বিষয়টির জন্য সম্পুরক বিষয়। তাই এটা দ্বিতীয় পর্বে আপনার জন্য জরুরী বিষয়।
‘আল ইলাল’ একটা জটিল ও সূক্ষ্ম শাস্ত্র, যার মধ্যে সাধারণ বোধগাম্য ও সুস্পষ্ট মূলনীতি কম, মুহাদ্দিসগনের ব্যক্তিগত নিপুন রুচী থেকেই মূলত এটা অনেকাংশে নিঃসৃত,এবং এতে দৃষ্টিভঙ্গির মতপার্থক্য স্বাভাবিক।
আর সর্বেশেষ ‘আসমাউর রিজাল’ হলো এক বিশালতম পরিসরের শাস্ত্র যেখানে ইতিহাসের বড় দখল রয়েছে।
সর্বিক বিবেচনায় আমরা আপনার জন্য মুসতলাহাতের আলোচনার পর প্রয়োজনীয়তা বিচারে “আল জারহু ওয়াতা’দীল”কে অগ্রাধিকাররে বিষয় বলে মনে করি। তা ছাড়া এটা বাকি তিনিটি আলোচ্য বিষয়ের তুলনায় ফন্নে হাদীসের জন্য সরাসরি দরকার এমন একটা অধ্যায়। আগেই বলেছি এটা পূর্বে আমাদের মুসতলাহাতে হাদীসের আলোচনার সম্পূরক পর্যালোচনা। এটার দ্বারা আপনার হাদীস সংক্রান্ত ধারণা আর বুঝাপড়া শাণিত হবে।

সাথে থাকুন!
আমাদের পরবর্তী আলাপ ইনশা আল্লাহ
الجرح والتعديل