খুতবা চাপিয়ে দেওয়া হয়নি: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ইসলামিক ফাউন্ডেশনদেশের মসজিদগুলোতে পাঠানো জুমার খুতবাকে নমুনা হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) জানিয়েছে, খুতবা কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি, কিংবা কারও জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি।

জুমার খুতবা সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের খুতবা প্রণয়ন কমিটি মঙ্গলবার এক বক্তব্যে এ কথা জানিয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের খুতবা প্রত্যাখ্যান করে গত ১৭ জুলাই দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একে ‘ধর্মীয় বিষয়ে অবৈধ হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করে তীব্র প্রতিবাদও জানিয়েছে। দেশের প্রায় সব ইসলামী রাজনৈতিক দলও এর নিন্দা জানিয়েছে বিবৃতি দেয়।

খুতবা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘দেশের অন্যান্য মসজিদের খতিব ও ইমামগণ যাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জন্য প্রণীত খুতবা থেকে ধারণা নিয়ে খুতবা উপস্থাপন করতে পারে, এ উদ্দেশ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন মসজিদে শুধুমাত্র নমুনা হিসেবে খুতবা প্রেরণ করা হয়। উক্ত খুতবা কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি কিংবা কারও জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, “বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে দীর্ঘকাল যাবত জুমার খুতবা প্রণয়ন ও উপস্থাপন করা হয়ে থাকে।

এ মসজিদের খতীব মরহুম মুফতি সৈয়দ আমীনুল ইহসান (রহ.) এবং মরহুম মাওলানা উবায়দুল হক (রহ.) নিজেরা খুতবা প্রণয়ন করে উপস্থাপন করতেন।

বর্তমানে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম সাহেবগণসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও খতীবগণের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জুমার খুতবা প্রণয়ন করা হয়ে থাকে এবং তা নিয়মিতভাবে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে উপস্থাপিত হয়ে আসছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত কর্মকর্তা-কর্মচারী খুতবা প্রণয়নের সাথে সম্পৃক্ত নন।

এ কমিটিতে শুধুমাত্র দেওবন্দ, হাটহাজারী ও পটিয়া মাদ্রাসাসহ মিসরের আল আযহার ও মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ আলেম-ওলামা সম্পৃক্ত রয়েছেন।

এ খুতবা পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দেশের প্রচলিত প্রায় সকল খুতবার কিতাবকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। এখানে কারো ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরা হয়নি এবং এর কোনো অবকাশও নেই।

ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। ইসলামের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ইসলাম বিধ্বংসী কাজের সাথে জড়িত না হয়, পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোকে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেক খতিব, ইমাম ও আলেম-ওলামার দায়িত্ব। তাঁরাই নায়েবে রাসূল (স:) হিসেবে মানুষকে হেদায়াতের পথে আহ্বান করবেন-এটাই ইসলামের দাবি।

খুতবা প্রণয়ন কমিটি থেকে প্রণীত কোন খুতবায় যদি ভুল-ভ্রান্তি থেকে থাকে তাহলে তা লিখিতভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অবহিত করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

খুতবার ভুল-ভ্রান্তির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ করলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বিভ্রান্ত হতে পারেন।

যদি কেউ পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোকে খুতবা প্রণয়ন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে প্রেরণ করেন তাহলে তা সাদরে গৃহীত হবে এবং তা বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে উপস্থাপনসহ দেশব্যাপী বিতরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তাছাড়া আরবি ভাষায় পারদর্শি কোনো বিশেষজ্ঞ আলেম খুতবা প্রণয়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তাঁকে স্বাগত জানাবে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ছাড়াও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যাদি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ইসলামের মৌলিক বিষয়ের ওপর পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর আলোকে খুতবা প্রণয়ন করে নিয়মিতভাবে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে উপস্থাপন এবং দেশব্যাপী বিতরণ করা হবে।
এ ব্যাপারে আমরা দেশের সর্বস্তরের শ্রদ্ধেয় আলেম-ওলামাগণের সুপরামর্শ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”