জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ব্রিটিশ পার্লামেন্টবাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাংলাদেশ বিষয়ক সেমিনার থেকে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১টায় হাউস অব কমন্সের কমিটি রুমে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

শুরুতেই ‘চাটহাম হাউজ রুল’ এর নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে সেমিনারের কোনো ছবি তোলা বা এবিষয় কোনো নিউজ প্রকাশ করা যাবে না বলে সবাইকে জানিয়ে দেন সেমিনারের অন্যতম উদ্যেক্তা লর্ড কার্লাইল।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন- মহাজোট প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমদ, জাতীয় পার্টি নেতা পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, আওয়ামী লীগ নেতা প্রশান্ত বড়ুয়া প্রমুখ।

সেমিনারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রতিনিধিরা পরস্পরের প্রতি অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই তাদের বক্তব্য শেষ করেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বক্তব্য রখেন। সেমিনারে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন লর্ড কার্লাইল ও বাংলাদেশ বিষয়ক অলপার্টি পার্লামেন্টারী গ্রুপের চেয়ার, কনজারভেটিভ দলীয় এমপি আন মেইন।

এতে উপস্থিত ছিলেন- সায়মন ডানসাক এমপি, রিচার্ড ফুলার এমপি, ব্যারোনেস ব্রিজ, এমোনেষ্টি ইন্টারন্যাশন্যালের আব্বাস ফয়েজ ও হিউম্যান রাইট ওয়াচের ব্রাড এডামস প্রমুখ।

সেমিনার শেষে বাইরে এসে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, সেমিনারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। অতীত ভুলে ভবিষ্যৎ উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে আমাদের। আমরা বলেছি অতীত মানে `১৯৭১ বাঙালি কখনো ভুলতে পারবেনা। বাঙালির চেতনার সঙ্গে মিশে আছে একাত্তর। সুতরাং আমাদের যাই করতে হয় একাত্তরের চেতনায়ই করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতা, গুপ্তহত্যা ইত্যাদি বিষয়ের তদন্ত অগ্রগতি সম্পর্কেও আমরা বলেছি।

সেমিনারে একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি ও ব্রিটিশ এমপিরা বলেছেন, বিরোধীদের ওপর দোষ চাপিয়ে সরকার নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারে না, এটা অগ্রহণযোগ্য। বর্তমান সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে । বিরোধী দলের উপরে ক্রমাগত দমন নিপীড়নের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা থেকে দেশে সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে । পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, ক্রসফায়ার, গুম-খুন এর দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে শেখ হাসিনার সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ বলেও সেমিনারে মন্তব্য করেন তারা।

মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, খুন, গুমসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারের। সুষ্ঠু তদন্ত এবং যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। কিন্তু একটি ঘটনারও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ কোনো তদন্ত না হওয়ার কারণে দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন এবং সন্ত্রাসবাদ জঙ্গীবাদের উত্থান হচ্ছে ।