শহীদুলের মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের খোলা চিঠি

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় আটক আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন বাংলাদেশের বন্ধু ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই।

আজ ৮ আগষ্ট মঙ্গলবার ফেসবুকে লেখা খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, আমার বিনীত অনুরোধ এবং আর্জি, তারুণ্যের সৎ ও সত্যনিষ্ঠ প্রতিনিধিকে শাস্তি দেবেন না।

শহীদুলের প্রতিষ্ঠিত পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রঘু রাই একাত্তরে স্টেটসম্যান পত্রিকার আলোকচিত্রী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ভারতমুখী শরণার্থীদের জনস্রোত ক্যামেরাবন্দি করেন।

ভারত সরকারের পদ্মশ্রী খেতাবধারী খ্যাতিমান এই আলোকচিত্রী একাত্তরের ভূমিকার জন্য ২০১২ সালে শেখ হাসিনার সরকারের কাছ থেকে পান মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা। খোলা চিঠির শুরুতে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে সে কথাই তিনি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমার নাম রঘু রাই। ২০১২ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু হিসেবে আপনি আমাকে সম্মাননা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে মহান বিপ্লবী নেতা শেখ ‍মুজিবুর রহমানের কন্যা সম্বোধন করে তিনি লিখেছেন- দৃক আর পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলম শেখ সাহেবের একজন ভক্ত। গত তিন দশক ধরে একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তাকে জানার সুযোগ আমার হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে শহীদুল হচ্ছেন সেই সব বিরল মানুষদের একজন, যারা সত্য ও সততার প্রতি নিষ্ঠাবান, দেশের জন্য তিনি প্রাণ দিতে পারেন। শহীদুলকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের খবরে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা জানিয়ে রঘু রাই লিখেছেন- শিক্ষার্থীদের যে দাবি (নিরাপদ সড়ক), সেটি যে কোনো সচেতন মানুষের দাবি বলেই মনে হয়। আর শহীদুল আলজাজিরাকে সেটিই বলেছেন।

রঘু রাই তার খোলা চিঠিতে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি কিশোর বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে থাকে, তা হলে তাদের সঙ্গেই তা মেটানো উচিত। কিন্তু সৎ দেশপ্রেমিক শহীদুলকেও আজ সে জন্য ভুগতে হচ্ছে।

রঘু রাই বলেন, এটি আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে পাকিস্তানি জেনারেলদের কথা, যারা সত্যনিষ্ঠ মানুষদের একটা শিক্ষা দিতে চেয়েছিল। কেবল তিনি নন, বিশ্বের আরও অনেক সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, শিল্পী, লেখক শহীদুলের পক্ষে দাঁড়িয়ে একই কথা বলবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি আশা করব, একজন শহীদুল আলমের জন্য মানুষের হৃদয়ের যে আকুতি, তার প্রতি আপনি সম্মান দেখাবেন।

প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার ঝিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে আসেন দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

এর পর রোববার রাতে শহীদুলকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হয়।