জানুয়ারি ১৮, ২০১৭

ইসলাম পন্থীদেরকে চাপে রাখার অপকৌশল পরিহার করুন: মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

শহিদুল ইসলাম কবির
মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম কবির

৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন স্বার্বেভৌম বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান ও শোলাকিয়ায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় উদ্দ্যেগ প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম কবির বলেছেন, সরকার ও সরকার সমর্থক কোনো কোনা ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠানের অতি মাত্রায় ইসলাম বিরোধী নীতির কারনে ইসলামের নামে কথিত সন্ত্রাসবাদ হঠাৎ করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে মারাত্মক আকার ধারন করেছে।

তিনি বলেন, ইসলামের বিধান গরু জবাই করতে রাজা গৌর গোবিন্দের নিষেধাজ্ঞার কারণে যে দেশে হযরত শাহ জালাল ইয়ামেনী রহ.এসে প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই শাহজালাল রহ. এর নামে বিমানবন্দরের নাম করন করে তার প্রচার করা ইসলামকে বিতারিত করতে একের পর এক ইসলাম বিরোধী সিদ্ধান্ত যখন সরকার গ্রহন করছে তখনি এ দেশে ধর্মের নামে কথিত সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

আজ এক বিবৃতিতে শহিদুল ইসলাম কবির বলেন, সরকার ও তার সমর্থকরা এতো দিন কওমী মাদ্রাসা ও ইসলামের প্রকৃত অনুসারীদেরকে জঙ্গীবাদী বলে যে মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে তাদের উপর জুলুম ক্ষেত্র বিশেষে নির্যতন চালানো ও হয়রানী করেছে তার অভিশাপ হিসেবে এ পরিস্তিতি সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এসব কিছুকে পুজি করে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষতদেরকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, আল্লাহ-রাসূল সা., ইসলাম ও মুসলমানদেরকে কটুক্তি করে বিভিন্ন সময় ব্লগারসহ কিছু বিব্রান্ত লোক প্রচারনা চালালেও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন না করা, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেয়া, হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা নীতির প্রচলন করে পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম ধর্মীয় এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বোধ-বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গতিপুর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিকারী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ তথা ৯২ ভাগ মানুষের ধর্ম ইসলামকে প্রাধান্য না দিয়ে মাত্র ৬ ভাগ সংখ্যালঘু মানুষের ধর্ম হিন্দুত্ববাদকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সিলেবাস থেকে মুসলমানিত্ব দূর করে সেখানে হিন্দুত্ব সংযুক্ত করা হয়েছে। যার কারণে কোনো কোনা মহল থেকে বলা হচ্ছে-বিতর্কিত শিক্ষানীতি ও প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন বাস্তবায়িত হলে আমাদের জাতীয় শিক্ষা বিপথগামী হওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থারও বিলুপ্তি ঘটবে। এসব কিছু উগ্রবাদ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল-এর চেয়ারম্যান বলেন, পাঠ্য পুস্তকে যখন হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ‘রামায়ন’এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘রামায়ন কাহিনী’, হিন্দুদের দেবী দূর্গার প্রশংসা, হিন্দুদের কালিপুঁজা ও পাঠাবলির কাহিনী চিত্রায়ন করা, সত্যেন সেনের ‘লাল গরুটা’ নামক একটি ছোট গল্পে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ‘গরু মায়ের মত, তাই গরু জবাই করা ঠিক নয়; অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ ও মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন বিরোধী কবিতা, শেখানো হয়।

আর ‘মরু ভাষ্কর’ নামক মহানবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত, ‘বিদায় হজ্জ’ নামক মহানবীর জীবন চরিত, খলিফা হযরত আবু বকর রা.এর জীবন চরিত, খলিফা হযরত ওমর রা. এর জীবন চরিত, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ লিখিত ‘সততার পুরষ্কার’ নামক ধর্মীয় শিক্ষনীয় ঘটনা ও মুসলিম সাহিত্যিক কায়কোবাদের লেখা ‘প্রার্থনা’ নামক কবিতা, বাদ দেয়া হয় তখন কথিত ধর্মকে বিতর্কিত করতে গড়ে ওঠা আর্ন্তাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এদেশে সন্ত্রাস চালাতে তাদের মতাদর্শের লোক তৈরী করতে আর বেগ পেতে হয়না।

শহিদুল ইসলাম কবির বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে ধর্মের নামে কথিত সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিতরা নম্পৃক্ত নয়। সাধারণ ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষত ছাত্র ও ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকরাসহ সরকার দলীয় লোকদের সন্তানদের সম্পৃক্ততার সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। সাথে সাথে জঙ্গীবাদ দমনে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ইসলাম বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ইসলাম পন্থীদেরকে চাপে রাখার অপকৌশল পরিহার করা জরুরী।