আন্দালুসিয়ার পর্যটকের মুখে ৬১৪ হিজরীতে উমরাহ পালনের আবেগময় স্মৃতিচারণ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | বেলায়েত হোসাইন


ইবনে জুবাইর, একজন আন্দালুসীয় বিখ্যাত মুসাফির এবং পর্যটক, তিনি তার বহুদিনের স্বপ্ন পবিত্র উমরাহ পালন করার রোমাঞ্চকর কাহিনীর বর্ণনা দিয়ে গিয়েছেন প্রায় সহস্র বছর পূর্বে। হজ মিডিয়ার সৌজন্যে ইনসাফ পাঠকদের জন্য ইবনে জুবাইরের সেই অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

তিনি বলেন, ৬১৪ হিজরী মুতাবিক ১২১৭ ঈসায়ী সাল। বসন্তের ত্রয়োদশতম দিবসের প্রথম প্রহরে আমাদের কাফেলা পবিত্র মক্কা নগরীতে এসে পৌঁছলো। রাতে রাতে আমরা পথ অতিক্রম করে এসেছি, পূর্ণিমার চাঁদ ভরা যৌবনা-প্রখর রৌদ্রতেজে দিনের মরুভূমির তপ্ত বালু রাতের বেলায় কিছুটা শীতল হতে থাকে, বালুর উপর চাঁদের কিরণ এমনভাবে প্রতিফলিত হচ্ছিলো যেনো আসমানি চাঁদের ঝিকিমিকির কিছুটা আলোকছটা বালুময় প্রান্তরে নেমে এসেছে। স্নিগ্ধ ও মোলায়েম রাতে আশপাশের তীর্থযাত্রীদের কাফেলাসমূহ থেকে সমস্বরে উচ্চারিত হয়ে কানে এসে বাজছিলো সুমধুর তালবিয়ার গুনগুন ধ্বনি এবং মহান রবের স্তুতি-বাণী।

চতুর্থদশতম দিন, আমার জীবনের সবচে মধুময় রাত,কারো জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসানের ঠিক আগে-মুহূর্তটা এমন, যেন ষোড়শীর লাইলাতুল আরুছ-পবিত্র বাইতুল্লাহকে সামনে করে আমি দাঁড়ানো।

যেখানে ইবরাহিম দাঁড়িয়েছিলো, ইসমাইল এসেছিলো, মহানবী স. এর যৌবনভরা জীবনের কতো মধুর স্মৃতির সামনে আমি লজ্জাবনত হয়ে আল্লাহর প্রশংসা পাঠ করছি।

আমরা তাওয়াফে ক্বুদুম শেষ করে মাকামে ইবরাহিমিতে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম। বাইতুল্লাহর সন্নিকটে মুলতাঝামে এসে কৃষ্ণবর্ণ অথচ নির্মল পবিত্র গিলাফ ছুঁয়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম। কাবার ফটক এবং হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী এই জায়গাতে বান্দার দোয়া কবুল করা হয়।

খাঁখাঁ রোদে আরবের মরু উষ্ণ উত্তপ্ত, কোথাও কোন পানি নেই, ইসমাইল পিপাসায় কাতরাচ্ছে, মা হাজেরা পানির জন্য সাফা মারওয়ার বুকে মরীচিকার দিকে দৌঁড়াচ্ছেন, বিফলমনোরথ হয়ে ফিরে আসেন তিনি-বাহ্ ইসমাইল পানি নিয়ে খেলছে!
অল্প পানি এদিকসেদিক গড়িয়ে গেলে শেষ হয়ে যাবে-এই ভয়ে মা হাজেরা পানিকে বললেন, জাম জাম! (থামো থামো)।
আমরা এই জামজামের নিকট এসে আঁজলা ভরে পানি পান করলাম তৃপ্তিসহকারে।

আমরাও সাফা মারওয়ায় দৌঁড়ালাম মরীচিকার পিছনে নয়,মহান আল্লাহর হুকুমে ইসমাইল এবং মা হাজেরার প্রতি প্রেম নিবেদন স্বরূপ। চুল ছেঁটে হালাল হয়ে প্রভুর প্রশংসা করলাম-আমাদের পবিত্র উমরাহ পালনের সমাপ্তি ঘটলো।