ইসরাইলি বিমান হামলায় শহীদ অন্ত:সত্ত্বা মা ও দুধের শিশুর জানাযায় শোকার্ত মানুষের ঢল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সামীউর রহমান শামীম


রাতভর ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলা এবং কামানের গোলা ও বোমা বর্ষণে নিহত ২৩ বছর বয়সী অন্ত:সত্ত্বা নারী ইনাস আবু খামাশ ও তাঁর ১৮ মাস বয়সী মেয়ে বায়ানের জানাযায় শত শত শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছে ।

গাজার দাইর আল বালাতে গত বছর এপ্রিল থেকে বাস করে আসছিলেন নয় মাসের অন্ত:সত্ত্বা নারী ইনাস আবু খামাশ, স্বামী মুহাম্মাদ ও তাঁদের মেয়ে বায়ান। বুধবার রাতে তাঁরা ঘুমিয়েছিলেন, ঘর সংলগ্ন বারান্দা এবং বাইরে বাগান। গ্রীষ্মের দাবাদহে যখন বিদ্যুৎ নেই, এমন পরিস্থিতে বাইরের বাগান থেকে আসা মৃদু বাতাসে ঘুমিয়ে তাঁরা।

রাত দুইটার দিকে ভয়নাক দুটি বিষ্ফোরণের শব্দ শোনেন তাঁদের প্রতিবেশী খালিদ আবু সানজার। তিনি বলেন, যখনই আমি শব্দ শুনলাম বুঝতে পারলাম, মুহাম্মাদের ঘরকেই বিষ্ফোরণের টার্গেট বানানো হয়েছে।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, হামলাটি ছিল ‘খুবই জঘন্য ও বেদনাদায়ক’। হামলার ফলে তাদের বসবাসের ঘরটি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। বাড়িটির সামনের অংশ পুরোটা বিধ্বস্ত হয়েছে।

“বাড়ির ভেতরে শুধু রক্ত আর রক্ত। দেখে আমাদের অন্তর কেঁপে ওঠে।” জানান খালিদ। তিনি আরও বলেন, “আমরা ইনাস ও বায়ানের দেহাবশেষ সেখানে পাই, সেগুলো একত্র করতে থাকি এবং সাথে সাথে অ্যাম্বুলেন্সের জন্যে খবর পাঠাই। আর গুরুতর আহত মুহাম্মাদ অবিরত চিৎকার করতে থাকে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা জানান, মুহাম্মাদ মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ভয়াবহ আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে।

মুহাম্মাদের ভাই কামাল প্রতিবেশীদের মুখে হামলার কথা শুনে দ্রুত ছুটে আসেন। তিনি জানান, “মুহাম্মাদ বলেছে, বিষ্ফোরণের সময় ছাদের (সিলিং) সাথে মাথায় ধাক্কা লেগে প্রচণ্ড আঘাত পায় সে এবং তারপর আবার নিচে মেঝেতে ছিটকে পড়ে।” ৩০ বছর বয়সী মুহাম্মাদ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে, এখনো সে তাঁর পরিবারের ভয়ানক মৃত্যুর ব্যাপারে অনবগত।

ইসরাইলি বিমান হামলার শিকার বাড়িটির ভেতর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে, আসবাবপত্র ও রক্তের ছাপ লেগে আছে দেয়ালে। বাচ্চার খেলনাগুলো এবং পোষা পশুপাখি বালি ও পাথরের স্তুপের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

ইনাসের ছোট বোন ইমানের আর্তনাদ

“আমার তো বোন ঘুমোচ্ছিল, তবে কেন তাঁকে এভাবে মরতে হলো?”—ইনাসের ছোট বোন ইমানের আর্তনাদ। ১৯ বছর বয়সী ইমান জানায়, তার বোন সবসময় কঠোর পরিশ্রম করতো। সে তার বাচ্চাকে নিরাপদে রাখতে সচেষ্ট ছিল এবং তাদের পরিবার ছিল খুব সুখী। দু-বোন মিলে বিগত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ ইনাসের দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের আগমনের জন্যে দিন গুনছিল এবং কাপড় তৈরি করছিল। তারা নামও ঠিক করে রেখেছিল, রাজান।

ইমান বলেন, “আমি কিছু বুঝতে পারছি না। আমি কামনা করি, সেই (ইসরাইলি) বাহিনীর সদস্যরা যারা আমার বোন ও ভাগ্নির ওপর হামলা করেছে, তারাও যেন শীঘ্রই এমন ব্যথা অনুভব করে, যেমন ব্যথা আমি পাচ্ছি।”

স্বস্থ্য মন্ত্রণালায় হতে জানানো হয়েছে, শিশুসহ কমপক্ষে ১২ ফিলিস্তিনি ভয়বহ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন রাতভর চলা এই হামলায়। হামাস সদস্য আলি ইউসুফও (৩০) বুধবারের হামলায় নিহত হন।
৩০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১৫৭ জন বেসমারিক ফিলিস্তিনি নাগরিক শহীদ হয়েছেন ইসরাইলি বাহিনির গুলিতে।


উৎস, আল জাজিরা ইংলিশ