আসামে হিটলারের চেয়েও খারাপ সময় চলছে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | অান্তর্জাতিক ডেস্ক


সদ্য প্রকাশিত আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে নাম না থাকা বিপন্ন বাঙালিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশটির বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী। এনআরসিতে ৪০ লাখ মানুষের নাম নেই। এই ‘অমানবিক’ সিদ্ধান্ত উদ্বিগ্ন করেছে বিশিষ্টজনদের।

আজ ১০ আগষ্ট শুক্রবার কলকাতা প্রেসক্লাবে তারা সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

কবি সুবোধ সরকার বলেন, জল আর পানিকে কোনো দিন আলাদা করা যায় না। হিটলারের চেয়েও খারাপ সময় চলছে। ৪০ লাখ মানুষের হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে।

তাদের দাবি, আসামের কিছু অঞ্চলে প্রতি বছর বন্যা হয়। আর বন্যার পানিতে বাসস্থান তছনছ হয়ে যায় গরিব মানুষদের। দুর্যোগের সময় স্বাভাবিকভাবে হারিয়ে যাওয়া নানা নথিপত্র দেখাতে না পারার কারণে বহু সাধারণ মানুষ জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া থেকে বাদ পড়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বাঙালিবিদ্বেষী চক্রান্তের অভিযোগ তুলে নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী বলেন আমি আসামে জন্মেছি৷ আমার জন্মভূমির মানুষরা আজ বিপন্ন। এই অন্যায় কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

অনুষ্ঠানে না আসতে পারা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বার্তা পাঠ করেন সুবোধ সরকার। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বলেন, অনুপ্রবেশ শুধু আসামের নয়; বাংলারও সমস্যা। এবং সমস্যাটি গুরুতরও বটে। অনুপ্রবেশ বন্ধ করাও জরুরি। কিন্তু নাগরিকপঞ্জির অজুহাতে বৈধ নাগরিকদের উৎখাতের চেষ্টা দুর্ভাগ্যজনক। আসামে যা ঘটছে তা আমাদের উদ্বেগের বিষয়। এর প্রতিক্রিয়া দূরপ্রসারী হওয়ার সম্ভাবনা।

প্রতিবাদসভায় সাহিত্যিক আবুল বাসার বলেন, এত দিন শুনছিলাম মুসলমান খেদানো হবে। এখন দেখছি একে একে বাঙালি হিন্দুদেরও তাড়ানো হচ্ছে। আমরা যাব কোথায়?

শুভাপ্রসন্ন বলেন, জয় গোস্বামী, শাঁওলি মিত্র, মনোজ মিত্র আজকের সভায় আসতে চেয়েছিলেন কিন্তু অসুস্থতার জন্য আসতে পারেননি।