দারুল কোরআন মাদরাসায় ইসলামী রেনেসাঁর কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


চট্টগ্রাম হাটহাজারী থানার অন্তর্গত দারুল কোরআন মাদরাসা রহিমপুর তারুণ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক প্লাটফরম ইসলামী রেনেসাঁর ‘উসুলুল হাদীস ওয়াল ফিকহ’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন লালখাঁনবাজার মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতী হারুন ইজহার। প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার উচ্চতর হাদীস বিভাগের দায়িত্বশীল মুফতী আবদুল্লাহ নাজীব এবং নাজিরহাট বড় মাদরাসার উলুমুল হাদীস বিভাগের দায়িত্বশীল মুফতী ইবরাহীম।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, নাজিরহাট বড় মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপল ও শাইখুল হাদীস মুফতী হাবীবুর রহমান কাসেমী।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মুফতী মাসউদুর রহমান চৌধুরী ও  মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।

গত বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব হতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে উক্ত কর্মশালা শুরু হয়। এতে হাটহাজারী, মেখল ও নাজিরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন মাদরাসা থেকে প্রায় অর্ধসহস্র ছাত্র অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালাটি মাগরিবের পর থেকে শুক্রবার বেলা এগারোটা পর্যন্ত চলে।

কর্মশালার প্রধান প্রশিক্ষক, লালখাঁনবাজার বাজার মাদরাসার মুহাদ্দিস ও সহকারী পরিচালক মুফতী হারুন ইজহার বলেন, সালাফীজমের সাথে আলেমদের ডিসকাশনটা ইলমী হতে হবে। যে কোন বিষয়ে তাদের একটি হাদীসের বিপরীতে আলেমদেরও পাল্টা গ্রহণযোগ্য হাদীস পেশ করতে হবে। এবং হাদীসের গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ইতিহাসের নিরিখে আলোচনা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, উসুলুলু হাদিস ও উসুলুল ফিকহের তুলনামূলক অধ্যয়ন করা আবশ্যক। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি আক্ষেপের সুরে আরো বলেন, আজ আমাদের তর্কটা ফন্নি দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে টিকা/টিপ্পনির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আমাদের মৌলিক কিতাবের মুতায়ালার দিকে বেশী নজর দেয়া দরকার।

কর্মশালায় প্রধান আলোচক, হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর হাদীস বিভাগের দায়িত্বশীল মুফতী আবদুল্লাহ নাজীব বলেন, সালাফী বা আহলে হাদীস দাবিদার ভাইদের সাথে আমাদের মূলত কিছু মাসয়ালায় মতবিরোধ রয়েছে। সেইসব মাসয়ালার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হাদীসগুলো জেনে রাখলেই আমরা তাদের জবাব দিতে সক্ষম হবো। এছাড়াও তাদের বিপরীতে আমাদেরকেও পাল্টা হাদীসে নিয়ে আসতে হবে।

অন্যতম আলোচক, নাজিরহাট বড় মাদরাসার উচ্চতর হাদীস বিভাগের দায়িত্বশীল মুফতী ইবরাহীম সাহেব বলেন, উসুলে হাদিসের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে ঘুলিয়ে ফেলার একটা চিত্র দেখা যায়। যেমন ইমাম বুখারীর উসুল দিয়ে ইমাম মুসলিমের হাদীসকে মাপা, ইমাম মুসলিমের মাপকাঠি দিয়ে অন্য হাদীসের গ্রহণযোগ্যতা নির্নয় করা ইত্যাদি। অথচ প্রত্যেকের মানদণ্ড স্বতন্ত্র। একিভাবে মাজহাবের ক্ষেত্রেও। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদের মুতায়ালা চালাতে হবে। তাহলেই উপকারে আসবে।

শুক্রবার সকালে পূর্বের ঘোষণানুযায়ী মুফতী হারুন ইজহার হানাফী মাজহাবের উসুলের উপর বিশেষ দরস প্রদান করেন।

কর্মশালাটির সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক, দারুল কোরআন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, নাজিরহাট বড় মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপল ও শাইখুল হাদীস মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী বলেন, এমন একটি ইলমী মাহফিলে ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অত্যন্ত আনন্দ দায়ক। এ ধরণের আয়োজন ছাত্রদের মাঝে সচেতনতা এবং ইলমের তৃষ্ণা বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বেলা এগারোটার সময় কর্মশালা সমাপ্তিকালে দারুল কোরআন মাদরাসা ও ইসলামী রেনেসাঁ কর্তৃপক্ষ জানান আগামীতে এ ধরণের আয়োজনের ধারাবাহিকতার আশ্বাস প্রদান করে