জাতীয় নেতাদের নিয়ে মহাসমাবেশ করে সরকারকে বার্তা দিতে চান ড. কামাল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করতে চান।

সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামারও ঘোষণা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল শোডাউন করতে চান তিনি। এ সমাবেশ থেকে সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হবে। এজন্য হস্তক্ষেপ কামনা করা হবে রাষ্ট্রপতির।

শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে আলাপকালে এসব কথা জানিয়েছেন ড. কামাল।

এদিকে, সরকার তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ। শাসক দলের মন্ত্রী-এমপিরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার।

তাদের অনেকে বলেছেন, ড. কামাল হোসেনরা এ ষড়যন্ত্রে মার্কিনিদের সঙ্গে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সব দাবি মেনে নেয়ার পরও তারা কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থীদের কাঁধে ভর করে সরকার ফেলে দেয়ার ষড়যন্ত্রে মত্ত। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর একটি বাসায় তারা গোপন বৈঠকেও মিলিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শাসক দলের মন্ত্রী-এমপিরা।

কিন্তু এসব অভিযোগ অস্বিকার করেছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে তিনি সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলার অর্থ এই নয় যে, আমি একজন ষড়যন্ত্রকারী। কিছু বললেই তারা (সরকার) সবখানে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খুঁজে বেড়ান।”

“এটা তাদের সীমাবদ্ধতা। মানুষ পরিবর্তন চায়। ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ হোক তা চায়। নিরাপদ সড়ক চায়। আগামীতে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ভোট হোক- মানুষ তা চায়। এখানে একজন ব্যক্তি বা একটি দল কি চায় তা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে, মানুষ কি চায়। তিনি বলেন, আমরা মানুষের এই চাওয়াটাকে সংগঠিত করতে সারা দেশে নামব। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করব। মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে অপশক্তি মাথানত করতে বাধ্য হবেই।”

জানা গেছে, বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা মহসমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এতে থাকবেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে ‘কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশের মালিক জনগণের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেন ড. কামাল হোসেন।

সেখানে তিনি বলেছেন, “আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে স্বৈরশাসনকে বিদায় নিতে হবে বা দেশ ছাড়তে হবে। তা না হলে আমাদের দাবির সঙ্গে একমত হতে হবে। এ ব্যাপারে গ্যারান্টিও দিতে পারি। তিনি বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, এ দেশের জনগণ কোনোদিন অন্যায় মেনে নেয়নি। তারা পরিবর্তন আনেই। দ্রুত এ সরকারকেও বিদায় নিতে হবে। তাদের বিদায় নেয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ দেশ আমাদের। যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম তা বাস্তবায়ন সম্ভব। ’৭১-এ কেউ কি ভেবেছিল যে আমরা নয় মাসে স্বাধীন হব। এখন বলা হচ্ছে, স্বৈরশাসন আমাদের শেষ করে দিচ্ছে। জনগণকে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র হয় না। তিনি ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্তদের বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সম্প্রতি স্কুল শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ড. কামাল হোসেন বলেন, ছাত্ররা দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে দেশ চালাতে হয়।”