জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

বিএনপি কি জামায়াতকে সুপার গ্লু দিয়ে অাটকে রেখেছে না কি!

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

অাইনমন্ত্রী অনিসুল হককে অামি চিনি দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে। তার মামা অামার স্যার পরম শ্রদ্ধাভাজনেষু, অাতাউস সামাদ। স্যার যখন এখন নামে একটি স্বাপ্তাহিক পত্রিকা বের করেন, তখন ওই পত্রিকার সাথে অামি ছিলাম অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত।ওই সময় মামা ভাগ্নের অনেক অালাপ চারিতা অামি শুনেছি। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময়ে মুখ্যসচিব লাপাত্তা ড. কামাল সিদ্দিকিও অানিসুল হকের নিকটাত্মীয়, সম্ভবত উনার বোনের জামাই। স্বাপ্তাহিক এখনের অন্যতম একজন ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক অাজিজ উলফত, তিনিও অাতাউস সামাদের সম্ভবত অারেক ভাগ্নেহ, যিনি এখন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি।

যাইহোক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর খ্যাতিমান অাইনজীবী সিরাজুল হকের যোগ্য পুত্র অানিসুল হক। বাবার পথ ধরে অাইন পেশায় এলেও, রাজনীতিক হিসেবে কখনো উল্লেখ করার মতন কেউ কখনো ছিলেননা,এখনো নন।

তবে তিনি লাকি! অাওয়ামীলীগের মতন একটি বিশাল দলে,এত স্টলওয়ার্ড অাইনজ্ঞ থাকতে শেখ হাসিনা তাকে অাইনমন্ত্রী করেছেন। বাবার কারনে কৃতজ্ঞতা স্বরুপ প্রধানমন্ত্রী তাকে অাইনমন্ত্রী করেছেন,কোন সন্ধেহ নেই। শেখ হাসিনার কৃতজ্ঞতা বোধকে , অামি স্যালুট করি,এপ্রেশিয়েট করি। তাছাড়া অাইনমন্ত্রী হবার খুব বেশী যোগ্যতা তার নেই। অাইন মন্ত্রনালয়ে যে বোর্ডে সাবেক মন্ত্রীদের নাম লেখা অাছে,সেটা দেখলেই বোঝা যায়! সে যাইহোক। চেয়ার মানুষকে যোগ্য করে তোলে। এটাই সত্য! কিন্তু অানিসুল হক কে কি চেয়ার সেটা করতে পেরেছে কিনা,সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্ধেহ অামার অাছে।

গত মার্চে এই অাইমনন্ত্রী বললেন, দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধের বিল প্রস্তুত হয়ে গেছে, অাসছে ক্যাবিনেট মিটিংএ সেটা অনুমোদন হলে বিল অাকারে সেটা সংসদের বাজেট অধিবেশনে তোলা হবে। এরপর বহুদিন চলে গেছে,পদ্মা মেঘনার বুকে বহু পানি গড়িয়েছে,কিন্তু জামায়াত নিষিদ্ধের বিল অার সংসদে তো দুরের কথা ক্যাবিনেটও ওঠেনি। এখন অার কেউ জানতে চায়না, জামায়াত নিষিদ্ধের বিল কতদুর।অাইন মন্ত্রনালয় এক সময় অামার কাছে ডাল ভাত ছিলো। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সেখানে পড়ে থাকতাম। এখনকার অাইন সচিব, ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরর সাবেক কর্মী জহিরুল ইসলাম, তখন উপসচিব। তার রুমে বহু দিন গেছি,দীর্ঘ সময় নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। অারো অনেক কর্মকতাই অাছেন,যারা বন্ধুর মতো তথ্য দিয়ে নানাভাবে সাহায্য করেছেন। তাদের অনেকেই এখন অার সেখানে নাই। যাইহোক কৌতুহল বশত সেদিন জামায়াত নিষিদ্ধের বিলের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে খবর নিতে একটু যোগাযোগ করলাম মন্ত্রনালয়েরর কর্মরত দায়িত্ব শীল একজন কর্মকর্তার সাথে। নানা প্রসঙ্গে অালাপের পর যখন অামি এ প্রসঙ্গ তুললাম। তিনি যেন অাকাশ থেকে পড়লেন! অামি প্রসঙ্গ অার বাড়ালামনা।

বিএনপি জামায়াতকে জোটে রাখবে কি রাখবেনা,সেটা বিএনপির নিজস্ব এজেন্ডা। এটা নিয়ে বাইরে থেকে নাক গলাতে চাইনা। কিন্তু সরকার কেন জামায়াত জুজু জিইয়ে রাখছে, কেন বার বার বিএনপির মাথায় কাঠাল ভাংতে চাচ্ছে… নিরন্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে,ক্ষমতাসিন দল,তাহলে জামায়াত কে কেন নিষিদ্ধ করছেনা। কেবল তার স্বরে শিয়ালের মত চিৎকার করছে বিএনপিকে জামাত ছাড়তে হবে।
বিএনপির সাথে জামায়াতের ঐক্য হয়েছিলো ভোটের। রাজনৈতিক কোন ইচ্ছাপুরনের জন্য নয়। তাই যদি হত তবে তো জামায়াতের কর্মসুচীতে বিএনপি যোগ দিতো অার বিএনপির কর্মসুচীতে জামায়াত। কিন্তু তাতো নয়।

তাহলে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে মানে কি! বিএনপি কি জামায়াতকে সুপার গ্লু দিয়ে অাটকে রেখেছে না কি!
সরকার এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে…. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে , বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি সরকার জানেনা। এক ঢিলে কখনো দুই পাখি মারা যায়না!