মুক্ত হতে আরও ২ মামলায় জামিন পেতে হবে খালেদা জিয়াকে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


সর্বশেষ গতকাল একটি মামলা সহ এ নিয়ে মোট ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৪টি মামলায় জামিন পেলেন সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এখন আরও দুটি মামলায় জামিনের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকায় তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।

এদিকে সাবেক তিন বারের এই প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। আজ ১৫ আগস্ট বুধবার ৭৪-এ পা দিলেন তিনি । পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারেই নিজের ৭৩তম জন্মদিন কাটাচ্ছেন তিনি ।

খালেদা জিয়ার প্রকৃত নাম খালেদা খানম, ডাক নাম পুতুল। ১৫ আগস্ট , ১৯৪৬ সালে জলপাইগুড়িতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ভাইয়েরা সবার ছোট।  বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার।

১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভুত্থ্যানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শহীদ হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মিদের আহ্ববানে তিনি ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলতঃ বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।

১৯৯০ সালে সাধারণ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সংসদে যোগ দেয় এবং সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। এরপর আবারও বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে রাজপথে ও সংসদে ভূমিকা রাখেন।

১৯৯৯ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন হয় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে তার দল বিএনপি ও চারদলীয় জোট নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে। পরে ২০০৬ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি হলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন তিনি ও তার জোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার দল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন বয়কট করে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে আছেন।