মা-বাবার অসম্মতিতে প্রেমিককে বিয়ে; সেই স্বামীর হাতেই নির্যাতনের শিকার সালমা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোহেল আহম্মেদ


পার্শ্ববর্তী গ্রামের হৃদয় মিয়ার সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সালমা আক্তারের। পরবর্তীতে মা- বাবার অসম্মতি সত্ত্বেও প্রেমের টানে হৃদয়কে বিয়ে করে সালমা।

বুক ভরা স্বপ্ন আর আশা নিয়ে দুজনে গড়ে তুলেন নতুন সংসার। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই তাদের সংসারে দেখা দেয় চরম অশান্তি। পাওয়ার টিলার কিনার জন্য বাপের বাড়ি থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য সালমাকে চাপ দিতে থাকে তাঁর প্রেমিক স্বামী হৃদয়। সালমা এতে রাজী না হওয়ায় তাঁর উপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। অবৈধ প্রেমের সূচনীয় পরাজয় ঘটে টাকার কাছে।

এ নিয়ে প্রায়ই সালমাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে তাঁর স্বামী হৃদয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক সময় সালমা তাঁর খালার বাড়ি চলে যান। পরে স্থানীয় ইউ পি সদস্য বিষয়টি মিটমাট করে দেন এবং আর নির্যাতন না করার শর্তে সালমাকে স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু তার পর দিনই গত মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে আবারো সালমার উপর নির্যাতন চালায় হৃদয়। তাকে বেধড়ক মারপিট করে।  যাতে চিৎকার করতে না পারে সেজন্য তাঁর গলা চেপে ধরে তার পাষন্ড স্বামী হৃদয়।

খবর পেয়ে সালমার মা মনোয়ারা বেগম স্থানীয়দের সহযোগীতায় আহত মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নির্যাতিতা সালমা নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের ঝাইরকোনা গ্রামের হাদিস মিয়ার মেয়ে এবং হৃদয় একই ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সালমা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বাবা- মার অসম্মতিতে হৃদয় আমাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই পাওয়ার টিলার কিনার জন্য সে আমাকে বাবার বাড়ি থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু আমি টাকা এনে দিতে না পারায় প্রায় দিনই আমাকে মারপিট করে হৃদয়। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে এবং এসময় সে আমার গলা চেপে ধরে যাতে আমি চিৎকার না করতে পারি।

নির্যাতিতা সালমার বাবা হাদিস মিয়া বলেন, আমি আমার মেয়ের নির্যাতনকারী পাষন্ড হৃদয়ের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আইনের সহায়তা চেয়ে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক কল্যানী হাসান নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়। আমি এ ঘটনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানাই।